📌 বেঙ্গালুরুতে কর্মসংস্থানের সন্ধানে আসা পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম অভিবাসীরা পুলিশি হয়রানি ও মারধরের শিকার হচ্ছেন। অভিযুক্ত করা হচ্ছে অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে। নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও চলছে নির্যাতন
পশ্চিমবঙ্গ থেকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বেঙ্গালুরুতে আসা মুসলিম অভিবাসীরা এখন নিজেদের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণ করতে গিয়ে পুলিশের মারধর ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ সন্দেহে বারবার আটক, মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা ঘটছে। এমনকি যাঁরা পূর্বে পুলিশকে বাংলাদেশি শনাক্ত করতে সাহায্য করতেন, তাঁদেরও এখন একই অভিযোগে আটক করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেঙ্গালুরুতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা মুসলিম অভিবাসীরা পুলিশি হয়রানি ও মারধরের শিকার হচ্ছেন।
- 📌 ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ সন্দেহে বারবার আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগ অভিবাসীদের।
- 📌 মুরশিদার স্বামীকে একাধিকবার আটক করে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
- 📌 মোহাম্মদ শেখ ও আমিন পূর্বে পুলিশকে বাংলাদেশি শনাক্ত করতে সাহায্য করলেও এখন তাঁদেরই বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
- 📌 চলতি বছর ঈদের পর থেকে বেঙ্গালুরুর ম্যাজেস্টিক রেলওয়ে স্টেশনে অভিবাসীদের আটকের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পশ্চিমবঙ্গ থেকে কর্মসংস্থানের সন্ধানে বেঙ্গালুরুতে আসা মুসলিম অভিবাসীরা এখন নিজেদের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণ করতে গিয়ে পুলিশের মারধর ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ তাঁদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে সন্দেহ করে বারবার আটক করছে এবং মারধর করছে। এমনকি যাঁরা পূর্বে পুলিশকে বাংলাদেশি শনাক্ত করতে সাহায্য করতেন, তাঁদেরও এখন একই অভিযোগে আটক করা হচ্ছে।
মুরশিদা নামে এক অভিবাসীর স্বামীকে একাধিকবার আটক করে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত চার মাস আগে পরিবারকে রেখে তিনি নিজের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসেন। মুরশিদা বলেন, ‘আমরা তো ভারতীয়। তাহলে এভাবে পালিয়ে বেড়াতে হবে কেন? আমরা কী করেছি যে আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে?’
মুরশিদা জানান, তাঁর স্বামী বহু বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে ভোট দিয়েছেন এবং গণনাপত্র পেয়েছেন। তবে তাঁর বিভিন্ন নথিতে নাম ও তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে, যা তাঁকে পুলিশি হয়রানির মুখে ফেলতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ যখনই আমাদের আটক করে, তখন দেখানোর জন্য আমরা নথিগুলোর কপি প্রস্তুত রাখি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হবে?’
অন্যদিকে, মোহাম্মদ শেখ ও আমিন নামে দুই ব্যক্তি পূর্বে পুলিশকে বাংলাদেশি শনাক্ত করতে সাহায্য করলেও এখন তাঁদেরই বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মোহাম্মদ শেখ বলেন, ‘আমরা জানতাম এসব মানুষ কোথায় থাকেন এবং তাদের সম্পর্কে পুলিশকে তথ্যও দিতাম। অথচ এখন তারাই আমাদের ‘বাংলাদেশি’ বানিয়ে দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সহজ লক্ষ্য বানানো হয়েছে। তারা আমাদের ধরে নিয়ে যায়, মারধর করে এবং অনেক সময় শহরের মাঝখানে ছেড়ে দেয়।’
চলতি বছর ঈদের পর থেকে বেঙ্গালুরুর ম্যাজেস্টিক রেলওয়ে স্টেশনে অভিবাসীদের আটকের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুরশিদা বলেন, ‘ঈদের পর পরিবারটি যখন বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসে, তখন কেউ পুলিশকে জানায় যে ট্রেনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আসছে।’ এরপর পুলিশ তাঁদের আটক করে কয়েক দিন পর ছেড়ে দেয়।’
‘আমরা তো ভারতীয়। তাহলে এভাবে পালিয়ে বেড়াতে হবে কেন? আমরা কী করেছি যে আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে?’ — মুরশিদা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেঙ্গালুরু, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুরশিদা, মোহাম্মদ শেখ, আমিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ (দক্ষিণ ২৪ পরগনা), ৪৩ (বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!