📌 অস্ট্রেলিয়া নতুন অভিবাসন নীতিতে শিক্ষার্থীদের পরিবার নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক ঘোষণা করেছেন, ভিসা নবায়নের জন্য উচ্চতর কোর্সে ভর্তি আবশ্যক এবং ভিজিটর ভিসা ধারাবাহিকভাবে অন্য ভিসায় রূপান্তর করা কঠিন হবে। অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক অভিবাসী সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
অস্ট্রেলিয়া সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার নিয়ে দেশে আসার সুযোগে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন অভিবাসন নীতির আওতায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভিসার অধিকারী তাদের স্বামী, স্ত্রী, সঙ্গী বা সন্তানসহ ‘সেকেন্ডারি অ্যাপ্লিক্যান্ট’ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আসার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক নতুন এই নীতির ঘোষণা দেন এবং ভ্রমণ ভিসা ও শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার রোধের জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের কথা জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলিয়া শিক্ষার্থী ভিসা নবায়নের জন্য আগের মতো একই কোর্সে থাকার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে; উচ্চতর কোর্সে ভর্তি আবশ্যক
- 📌 ভিজিটর ভিসা ধারাবাহিকভাবে অন্য ভিসায় রূপান্তর করা কঠিন হবে — ‘নো ফারদার স্টে’ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে
- 📌 প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশের নাগরিকদের পরিবার নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে
- 📌 অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক অভিবাসী সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
- 📌 বিদেশি শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে ২০২৫ সালে ৫৩.৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার অবদান রেখেছে
- 📌 নতুন নীতির বাস্তবায়নে ১০০ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অসাধু অভিবাসন এজেন্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক নতুন অভিবাসন নীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবার নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার শক্তির একটি অংশ হলেও এর ওপর ‘উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ প্রয়োজন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা ভিসা নবায়নের জন্য আগের মতো একই বা সমমানের কোর্সে থাকার পরিবর্তে উচ্চতর পর্যায়ের কোনো কোর্সে ভর্তি হতে হবে। এছাড়া সব ভিজিটর ভিসায় ‘নো ফারদার স্টে’ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার সুযোগ সীমিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্ক আরও জানান, নতুন নীতির আওতায় অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে ১০০ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি ভিসা-সংক্রান্ত অনিয়মে সহায়তাকারী অসাধু অভিবাসন এজেন্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সরকার। মেলবোর্নের একটি সাবেক কোয়ারেন্টাইন স্থাপনাকে আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়। দেশটির আবাসন সংকটের জন্য উচ্চ অভিবাসনকে দায়ী করে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কট্টর ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসন দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছেন। দলটি আগামী তিন বছরে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
সূত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত দেশটির অর্থনীতিতে ৫৩.৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার অবদান রেখেছে। ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ৩ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা দেয়, যার মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার ছিল শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য।
"অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার শক্তির একটি অংশ হলেও এর ওপর ‘উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ থাকা প্রয়োজন। অভিবাসন কমানোর এই উদ্যোগ রাজনৈতিক চাপের কারণে নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও আমি নাকচ করে দেই"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া (মেলবোর্ন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক, পলিন হ্যানসন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ সেপ্টেম্বর, ৭ লাখ ৫০ হাজার, ১০০ জন, ৩ লাখ ৩৭ হাজার, ২ লাখ ২৫ হাজার, ৫৩.৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!