📌 তিউনিসিয়ার রাজধানী তুনিসে ভারী বৃষ্টিতে সড়ক, বাড়ি ও টানেল ডুবে গেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যানবাহনে আটকে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছে। বন্যার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। বন্যার দায়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের সমালোচনা করা হচ্ছে
তিউনিসিয়ার রাজধানী তুনিসে গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সড়ক, বাড়ি ও টানেল ডুবে গেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যানবাহনে আটকে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়েছে। বন্যার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়। বন্যার দায়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের সমালোচনা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তুনিসের ৩০ লক্ষেরও বেশি বাসিন্দা বন্যার শিকার; সড়ক, বাড়ি ও টানেল ডুবে গেছে
- 📌 ৩৫ বছর বয়সী ফাতমা বলেন, ৪টা বাজে সড়ক ডুবে যাওয়ার পর টানেল বাব সাদুন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়
- 📌 বন্যার কারণে ৩টি যানবাহন ডুবে যায়, যাত্রীরা শিশুকে কাঁধে করে বেরিয়ে আসে
- 📌 বন্যার পূর্বে আবহাওয়া সংস্থা সতর্কবার্তা জারি করে, কিন্তু দ্রুত প্রতিক্রিয়া না দেখানো
- 📌 সরকার ২৯টি বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্প চালু করেছে, কিন্তু নাগরিকরা কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ তুলে
- 📌 বন্যার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়, শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরতে অসুবিধা পাচ্ছে
- 📌 শনিবার তুনিসে বন্যা-প্রতিরোধী প্রতিবাদে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
তিউনিসের মেট্রোপলিটন এলাকায় বন্যা এসেছে বারবার। গত জানুয়ারিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপর্যয় ঘটে, বেশ কয়েকজন মারা যায়। আবহাওয়া সংস্থা সতর্কবার্তা জারি করে, কিন্তু বৃষ্টির পরিমাণের কারণে সড়ক ও বাড়ি ডুবে যায়। ফাতমা, একজন ৩৫ বছর বয়সী কর্মী, বলেন, “৪টা বাজে সড়ক ডুবে যাওয়ার পর টানেল বাব সাদুন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। লোকজন সড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী অপেক্ষা করছিল, কিন্তু কোনো জনগণপরিবহন আসেনি। আমি তিনটি যানবাহন দেখেছি যা ডুবে গিয়েছিল এবং যাত্রীরা শিশুকে কাঁধে করে বেরিয়ে আসছিল।”
বন্যার কারণে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। ফাতমা বলেন, “এই মৌসুমে সবসময় একই ঘটনা ঘটে। সড়ক বন্ধ হয়ে যায়, যানজট হয় এবং নালা থেকে গন্ধহীন জল বেরিয়ে আসে।” আবহাওয়া সংস্থা সতর্কবার্তা জারি করে, বলেছে, “বৃষ্টি সংক্ষিপ্ত সময়ে ভারী হতে পারে, যা সড়ক যানবাহনকে প্রভাবিত করবে এবং নালা ব্যবস্থাকে অপারগ করে তুলবে। বিদ্যুৎ বন্ধের সম্ভাবনা রয়েছে।”
নাগরিকরা কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ইনতিসার, ৩৩ বছর বয়সী একজন নাগরিক, বলেন, “তিউনিসিয়া বন্যার মতো দুর্যোগের সাথে অভ্যস্ত। বছরে একবার বৃষ্টি হলে সড়ক ডুবে যায়। এই কাজটি গ্রীষ্মকালে করা উচিত ছিল। কিন্তু নাগরিকরা নালা ব্লক করে ফেলে, যা বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
সরকার আগস্ট মাসে একটি বৈঠকে ঘোষণা দিয়েছে, “নালা ও জলপ্রবাহের পরিষ্কারকরণ এবং বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের গতি বাড়ানো হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৯টি বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্প চলছে।”
বন্যার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। ফাতমা বলেন, “এই সমস্যা মানুষকে নিজের সমাধান খোঁজার দিকে ধাবিত করছে। তাই অধিকাংশ লোক যানবাহন কিনতে চায়, কারণ বন্যার কারণে যানবাহন ছাড়া জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
শনিবার তুনিসে একটি জাতীয় প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চারজন কারাবন্দী কর্মকর্তাকে মুক্তি দেবার দাবি করা হবে। প্রতিবাদে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, কিন্তু আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, বৃষ্টি শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
"৪টা বাজে সড়ক ডুবে যাওয়ার পর টানেল বাব সাদুন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। লোকজন সড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী অপেক্ষা করছিল, কিন্তু কোনো জনগণপরিবহন আসেনি। আমি তিনটি যানবাহন দেখেছি যা ডুবে গিয়েছিল এবং যাত্রীরা শিশুকে কাঁধে করে বেরিয়ে আসছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তুনিস (তিউনিসিয়া), বাব সাদুন টানেল
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ফাতমা (৩৫ বছর), ইনতিসার (৩৩ বছর), আল জাজীরা প্রতিবেদক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ বছর বয়সী ফাতমা, ৪টা বাজে, ২৯টি বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্প, ৫টা বাজে (শনিবার প্রতিবাদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!