📌 অস্ট্রেলিয়া সরকার নতুন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। শিক্ষার্থীদের ভিসা হপিং বন্ধ, পরিবার আনার সুযোগ সীমিত এবং নিট অভিবাসী সংখ্যা কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা উৎকণ্ঠায় ভোগছেন এবং বিক্ষোভে নামল রাজপথ
অস্ট্রেলিয়া সরকার নতুন অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নতুন নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের ভিসা হপিং বন্ধ, পরিবার আনার সুযোগ সীমিত এবং ভ্রমণ ভিসার অপব্যবহার রোধের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলিয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নিট অভিবাসী সংখ্যা কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজারে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী বছরগুলোতে তা আরও কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- 📌 নতুন নীতিতে শিক্ষার্থীদের ভিসা হপিং বন্ধ করা হয়েছে এবং পরিবার আনার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন এমন শিক্ষার্থীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ভ্রমণ ভিসায় অতিরিক্ত অবস্থানের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে পর্যটক হিসেবে আসা ব্যক্তিরা অন্য ভিসায় আবেদন করতে পারবেন না।
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নিট অভিবাসন কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন।
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, যারা অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখবেন, তাদের স্বাগত জানানো হবে, কিন্তু অনিয়ম বা অন্যায্য সুযোগ নেওয়া বরদাশত করা হবে না।
- 📌 সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও উৎকণ্ঠায় ভোগছেন এবং তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার নতুন অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী টনি বার্ক নতুন নীতিমালার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বার্ষিক নিট অভিবাসীর সংখ্যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। পরের বছরগুলোয় তা আরও কমিয়ে বছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের ভিসা হপিং বন্ধ করা হয়েছে। ভিসা হপিং বলতে উচ্চশিক্ষা শেষ করে নিম্নমানের কোর্সে ভর্তি হওয়া বা বারবার ভিসা পরিবর্তনকে বোঝায়। এছাড়াও, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। টনি বার্ক বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় পরিবার নিয়ে আসার সুযোগ আর বাড়ানো হবে না। তবে ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন এমন শিক্ষার্থীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আবেদনকারীদেরও ছাড় দেওয়া হবে। পিএইচডির শিক্ষার্থীদেরও পরিবার নিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণ ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অবস্থান দীর্ঘায়িত করার পথ বন্ধ করার জন্য সব ধরনের পর্যটন ভিসায় ‘অতিরিক্ত অবস্থানের সুযোগ নেই’ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ফলে পর্যটক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সেখানে অন্য ভিসায় আবেদন করার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যাঁদের ভিসার বৈধ মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাঁদের দ্রুত দেশত্যাগে বাধ্য করতে নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আগের এক বছরে দেশটিতে নিট অভিবাসন কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০। এই সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম এবং ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন।
সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। সিডনির বিখ্যাত হাইড পার্কসহ মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনের মতো প্রধান শহরগুলোয় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা কাজ করছে। সিডনির ড্যানহ্যাম কোর্ট এলাকার বাসিন্দা এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা বিশাল অঙ্কের টিউশন ফি দিয়ে বৈধভাবে পড়াশোনা করতে এসেছি। কিন্তু নিয়ম বদলানো এবং ভিসা হপিং বন্ধের কারণে আমাদের ভবিষ্যত এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।’
"আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে" — অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থীরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া (ক্যানবেরা, সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: টনি বার্ক (অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), অ্যান্থনি আলবানিজ (অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী), বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ৪৫ হাজার (২০২৬-২৭ অর্থবছরে নিট অভিবাসী), ২ লাখ ২৫ হাজার (পরবর্তী বছরগুলোয় নিট অভিবাসী), ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ (চলতি বছরের নিট অভিবাসন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!