📌 বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ওড়িশা সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং ভারতের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা বাড়ছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এই ঘূর্ণিঝড়টি আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ঘূর্ণিঝড়টি মধ্য ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের শ্রী বিজয়পুরম থেকে প্রায় ৫৯০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ও ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৬১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বুধবার (২৮ অক্টোবর) অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে, যা ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
- 📌 ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
- 📌 ওড়িশা সরকার ঝুঁকিপূর্ণ ছয় জেলায় (গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট ও নবরংপুর) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
- 📌 ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি আটজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি তদারকির জন্য।
- 📌 ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ, যা উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকায় রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে। বুধবার সকালে এটি অন্ধ্র প্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির আঘাতের ফলে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ, শক্তি এবং আঘাতের সময়ের ওপর।
ওড়িশা সরকার ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ঝুঁকিপূর্ণ ছয় জেলায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়াও, সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি তদারকির জন্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি আটজন মন্ত্রীকে বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব দিয়েছেন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), ওড়িশা দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (ওডিআরএএফ), ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যদেরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
"ঘূর্ণিঝড়টি আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। উপকূলে আঘাত হানার সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বঙ্গোপসাগর, অন্ধ্র প্রদেশ (বাপটলা ও বিশাখাপত্তনম), ওড়িশা (গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট, নবরংপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৯০ কিলোমিটার (আন্দামান থেকে দূরত্ব), ৬১০ কিলোমিটার (ওড়িশার গোপালপুর থেকে দূরত্ব), ১১৫-১২৫ কিলোমিটার (বাতাসের গতিবেগ), ১৪০ কিলোমিটার (দমকা হাওয়ার গতিবেগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!