📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

তালেবান শাসনের পাঁচ বছরে আফগানিস্তান: মানবিক বিপর্যয় আর নারীর অধিকারহীনতার গল্প

তালেবান শাসনের পাঁচ বছরে আফগানিস্তান: মানবিক বিপর্যয় আর নারীর অধিকারহীনতার গল্প

📷 ছবি: Ajker Patrika

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 আজকের পত্রিকা ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছরে আফগানিস্তান মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। যুদ্ধের ক্ষত, অর্থনৈতিক সংকট আর আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ায় দেশটির ৪৫ শতাংশ মানুষ এখন সহায়তার মুখাপেক্ষী। নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে

তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছরে আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক ও মানবাধিকার সংকটের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশৃঙ্খল প্রত্যাবর্তনের পর আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। দেশটির প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ এখন কোনো না কোনো ধরনের সহায়তার মুখাপেক্ষী। আন্তর্জাতিক দাতাদের অর্থায়ন ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছরে মানবিক সহায়তা প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে
  • 📌 দেশটির ৪৫ শতাংশ মানুষ এখন কোনো না কোনো ধরনের মানবিক সহায়তার মুখাপেক্ষী
  • 📌 তালেবান সরকার মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে প্রায় ২৪ লাখ আফগান মেয়েকে বঞ্চিত করেছে
  • 📌 আফগানিস্তানের প্রতি ১০ শিশুর একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে
  • 📌 তালেবান সরকারের নির্দেশনায় স্ত্রীকে মারধরের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে
  • 📌 আফগানিস্তানের অর্থনীতি এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল

📰 বিস্তারিত

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনের পর দেশটিতে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই আফগানিস্তানে মানবিক সংকট ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লাখো আফগান শিশু অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানবিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ এখন কোনো না কোনো ধরনের সহায়তার মুখাপেক্ষী।

আন্তর্জাতিক দাতাদের অর্থায়ন ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। একসময় আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় সহায়তাদাতা যুক্তরাষ্ট্র এখন শীর্ষ পাঁচ দাতার মধ্যেও নেই। ২০২৫ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন আফগানিস্তানে প্রায় সব ইউএসএআইডি মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি বাতিল করে দেয়। ফলে পরিকল্পিত ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়।

এই অর্থসংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছেন নারী ও শিশুরা। তালেবান সরকার মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ আফগান মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার বাইরে রয়েছেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার সুযোগ না পেয়ে একটি পুরো প্রজন্মের মেয়েশিশু কৈশোর পার করছে। নারীদের অধিকাংশকে চাকরি থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। জনসমক্ষে মুখ ঢেকে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং পুরুষ অভিভাবক ছাড়া দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, আফগান নারীদের অর্ধেক এখন মাসে মাত্র এক বা দুবার বাড়ির বাইরে বের হন। এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যে—প্রায় ৭০ শতাংশ নারী তাদের মানসিক অবস্থাকে ‘খারাপ’ বা ‘খুব খারাপ’ বলে বর্ণনা করছেন। তালেবান সরকারের সাম্প্রতিক কিছু ফরমান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে। গত মার্চে জারি করা একটি নির্দেশনায় স্ত্রীকে মারধরের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আরেকটি নির্দেশনায় নারীদের বিবাহবিচ্ছেদ কঠিন করার পাশাপাশি বিয়ের ন্যূনতম আইনি বয়সের বিধান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, এতে বাল্যবিবাহ আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে নারী-নেতৃত্বাধীন বহু সংগঠনও টিকে থাকার সংকটে পড়েছে। জাতিসংঘের জরিপে অর্ধেকের বেশি নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠন জানিয়েছে, অর্থের অভাবে আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত করতে হতে পারে। অথচ ১ কোটি ৭ লাখের বেশি আফগান নারী ও মেয়েশিশু মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

শিশুদের অবস্থাও ভয়াবহ। সেভ দ্য চিলড্রেনের সাম্প্রতিক হিসাবে, আফগানিস্তানের প্রতি ১০ শিশুর একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। ইউনিসেফের হিসাবে চলতি বছর ১ কোটি ১০ লাখের বেশি শিশুর মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অর্থসংকটে প্রায় ৬০০ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।

দেশটির অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ২০২২ সালে তালেবান আফিম চাষ নিষিদ্ধ করার পর দেশটিতে আফিম উৎপাদন প্রায় ৯৫ শতাংশ কমেছে—যা অবৈধ মাদক উৎপাদন কমানোর ইতিহাসে অন্যতম বড় পতন। তবে আফিম ছিল বহু গ্রামীণ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না থাকায় নিষেধাজ্ঞা অনেক পরিবারকে আরও বিপাকে ফেলেছে। জাতিসংঘ এখন সেখানে মেথামফেটামিনসহ সিনথেটিক মাদকের উৎপাদন ও পাচার বাড়ার আশঙ্কা করছে।

২০২১ সালের আগে বিদেশি সহায়তা আফগান সরকারের মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জোগান দিত। সেই অর্থ এখন অনেকটাই নেই। তালেবানের মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হাতে আফগানিস্তানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আটকে আছে।

"তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পর আফগানিস্তান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক ও মানবাধিকার সংকটগুলোর একটি হয়ে আছে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নারীদের অধিকার হরণের সম্মিলিত চাপে লাখো আফগান শিশু অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: আফগানিস্তান
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তালেবান সরকার, আফগান নারী ও শিশুরা
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ শতাংশ, ৭০ শতাংশ, ২৪ লাখ, ১ কোটি ৭ লাখ, ১ কোটি ১০ লাখ

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖