📌 ১৪ মাস বয়সী মিনহা রহমান রিদার রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসায় সহায়তার জন্য মামা শাহাদাত জামান একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন। মাত্র ১৩ ঘণ্টায় ৬২ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়। মিনহার মা মালিহা মোবাকশ্বেরা বলেন, মানুষের সহযোগিতাই তাদের মেয়ের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করছে
১৪ মাস বয়সী মিনহা রহমান রিদার রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসায় সহায়তার জন্য মামা শাহাদাত জামান একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন। মাত্র ১৩ ঘণ্টায় ৬২ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়। মিনহার মা মালিহা মোবাকশ্বেরা বলেন, মানুষের সহযোগিতাই তাদের মেয়ের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিনহা রহমান রিদার (১৪ মাস) ১১ মাস বয়স থেকে রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসায় সহায়তার জন্য মামা শাহাদাত জামান একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন।
- 📌 মাত্র ১৩ ঘণ্টায় ৬২ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়। সহায়তার পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকলে শাহাদাত বলেন, আর টাকা লাগবে না।
- 📌 মিনহার চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে কম করে হলেও চার বছর।
- 📌 মিনহার বাবা রোমান হোসেন নারায়ণগঞ্জের বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত। মিনহার মা মালিহা মোবাকশ্বেরা বনশ্রীতে তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকছেন।
- 📌 মিনহার বুকে বুধবার ‘কেমো পোর্ট’ লাগানো হবে। এই পোর্ট লাগানোর খরচ ৫০ হাজার টাকা।
- 📌 মিনহার মা মালিহা বলেন, মানুষের সহযোগিতাই তাদের মেয়ের উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব করেছে।
📰 বিস্তারিত
মিনহার মা মালিহা মোবাকশ্বেরার কথায়, ‘প্রথমেই মনে হয়েছে, আমার ছোট বাচ্চাটার কেন এমন হলো? এত দিন পর বাচ্চাটা হলো... এসব কথা বলতে গেলে বুক ফেটে যায়। সারাক্ষণ মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় থাকি, কখন কী হয়ে যায়। হাসপাতালে গেলে মেয়ের ভেইন পাওয়া যায় না, ক্যানুলা নষ্ট হয়ে যায়, মেয়ে চিৎকার করে কাঁদে। তারপরও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করি। এটা তো এখন আমাদের জীবনের অংশ, তাই সব মেনে নিয়েছি।’
মিনহার চিকিৎসা সহায়তায় দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। মিনহার মামা শাহাদাত জামান সৈকত মিনহার চিকিৎসায় সহায়তার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন। তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্ট দেওয়ার পর মাত্র ১৩ ঘণ্টায় ৬২ লাখ টাকার বেশি সহায়তা পাওয়া যায়। সহায়তার পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকলে আরেক পোস্টে শাহাদাত বলেন, ‘আর টাকা লাগবে না।’
মালিহা বলেন, ‘চিকিৎসক যখন মেয়ের ক্যানসারের কথা প্রথম বলেন, তখন পরিবারের সদস্যদের মাথায় খরচের চিন্তা আসে। সোনার গয়না কতটুকু আছে, জমি কতটুকু বিক্রি করতে হবে—এসব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে সহায়তা চাইলে আসলেই মানুষ এভাবে এগিয়ে আসবেন তা চিন্তাও করেননি। তবে শেষ পর্যন্ত তা–ই হয়েছে। মানুষ এগিয়ে না এলে মেয়ের উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হতো না।’
মিনহার বাবা রোমান হোসেন নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় বেসরকারি কোম্পানিতে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। মালিহা মেয়ের ক্যানসার ধরা পড়ার পর তাকে নিয়ে রাজধানীর বনশ্রীতে তাঁর মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকছেন। এখন বেশির ভাগ সময়ই হাসপাতালে থাকতে হয় বা বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতে হয়। মালিহা বলেন, ‘মেয়ের ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকে আমাদের পুরো জীবনটাই পাল্টে গেছে।’
মিনহার মা জানান, শারীরিক সমস্যার কারণে বিয়ের পর পাঁচ বছর তিনি মা হতে পারেননি। ভারত ও দেশের মধ্যে চিকিৎসা করানোর পর তিনি মা হন। মিনহা গর্ভে থাকার সময় মালিহার থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিলতা ছিল। তবে গত বছরের ২২ আগস্ট অস্ত্রোপচারে জন্মের সময় এবং পরে ১১ মাস বয়স পর্যন্ত মেয়ে সুস্থ ছিল। তারপরই হুট করে জানা গেল মেয়ের ক্যানসার। মিনহা খাচ্ছিল না, ওজন বাড়ছে না—এমন কিছু সমস্যা হতে থাকে। গত মে মাসে জ্বর আসে। তারপর জ্বর ভালোও হয়ে যায়। ক্যানসার শনাক্তের আগে মিনহার গলা ফুলে যায়। ৩১ জুলাই হোয়াইট ব্লাড সেলের রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক প্রথম রক্তের ক্যানসার হয়েছে বলে সন্দেহ করেন। আগস্ট মাসের ১ তারিখ থেকেই চিকিৎসা শুরু হয় মিনহার।
"মেয়ের হাসিটা সারা জীবন দেখতে চাই। আবার প্রয়োজন হলে এবারের মতো সবাইকে আবার একটু এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।"
মিনহার এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট বলছে, চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী তা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। ক্যানসার পরীক্ষার প্রতিবেদন ও চিকিৎসা ঠিক আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য মিনহাকে ভারতের উন্নতমানের একটি হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসকেরাও জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যে চিকিৎসা চলছে, তা ঠিক আছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা (এভারকেয়ার হাসপাতাল), নারায়ণগঞ্জ (ভুলতা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিনহা রহমান রিদার (১৪ মাস), মালিহা মোবাকশ্বেরা, শাহাদাত জামান সৈকত, রোমান হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২ লাখ টাকা (১৩ ঘণ্টায় সংগ্রহ), ১৪ মাস (মিনহার বয়স), ১১ মাস (ক্যানসার আক্রান্ত), ৪০ লাখ টাকা (চিকিৎসায় খরচ), ৫০ হাজার টাকা (কেমো পোর্ট লাগানোর খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!