📌 মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের কারণে শয্যাসংকটের কারণে শিশু ওয়ার্ডে এক বিছানায় তিন শিশু ও তাদের মায়েদের থাকতে হচ্ছে। জনবল সংকট ও শূন্য পদের কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে
মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের কারণে শয্যাসংকটের পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৪০টি শয্যা থাকলেও বর্তমানে ১৫৭ শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে। শয্যাসংকটের কারণে একই বিছানায় দুই থেকে চার শিশু ও তাদের মায়েদের একসাথে থাকতে হচ্ছে। রোগীদের অনেকে মেঝেতে ম্যাট্রেস বা মাদুর পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ৪০টি শয্যার বিপরীতে ১৫৭ শিশু রোগী ভর্তি — এক বিছানায় তিন শিশু ও তাদের মায়েদের থাকতে হচ্ছে
- 📌 শয্যাসংকটের কারণে রোগীরা মেঝেতে ম্যাট্রেস বা মাদুর পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন
- 📌 মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি এলাকার লাকী বেগমের তিন বছর বয়সী ছেলে তাফসির এক বিছানায় তিন শিশুর সাথে থাকতে বাধ্য
- 📌 মাদারীপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল জানান, ১৯৭ জনবলের বিপরীতে কর্মরত ১৩৮ জন — ৫৯টি পদ শূন্য
- 📌 ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হলেও অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ব্যাহত
📰 বিস্তারিত
মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু, হাম, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরসহ বিভিন্ন রোগের কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থাপনা বাড়েনি। শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংকটের কারণে একই বিছানায় দুই থেকে চার শিশু ও তাদের মায়েদের একসাথে থাকতে হচ্ছে। শিশুদের কান্না ও চিৎকারে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি এলাকার লাকী বেগমের তিন বছর বয়সী ছেলে তাফসির জ্বর ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বলেন, ‘একই বেডে আমার ছেলেসহ তিনজন শিশু থাকছে। থাকতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু কী করব, ছেলেকে চিকিৎসা করাতে হবে, তাই কষ্ট করে থাকছি।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার চিড়াইপাড়া গ্রামের তৌয়বা তাবাসসুম তুবা বলেন, তাঁর এক মাস ২০ দিন বয়সী ছেলে আরশিয়া রহমান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এক বেডে তিনজন শিশু আছে। সব শিশুই ছোট। মায়েদের কোলে নিয়ে বা পাশে শুয়ে থাকতে হয়। এই পরিস্থিতিতে খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’
"গত কয়েক দিনে মাদারীপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের চিকিৎসার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা আছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত কিটও রয়েছে। তবে অন্যান্য রোগীদের ক্ষেত্রে এতটা সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শয্যা সংকটের কারণে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের কয়েকজনকে একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।"
জনবলসংকটের কথা উল্লেখ করে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল বলেন, ‘মাদারীপুরের ১০০ শয্যা হাসপাতালের লোকবল দিয়েই ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। লোকবল পর্যাপ্ত থাকলে চিকিৎসার মানও অনেক গুণ বেড়ে যায়। শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৪০টি আসন রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিনই দেড়শ থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। তবু আমরা কোনো অসুস্থ শিশুকে ফিরিয়ে দিই না। ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল, শিশু ওয়ার্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল (জেলা সিভিল সার্জন), লাকী বেগম, তৌয়বা তাবাসসুম তুবা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ শয্যা, ৪০ শয্যার বিপরীতে ১৫৭ শিশু, ১৯৭ জনবলের বিপরীতে ১৩৮ জন কর্মরত, ৫৯টি পদ শূন্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!