📌 চট্টগ্রামে ১৪২ কোটি টাকার ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সেগুলো কার্যকর হয়নি। সেতু, বিপণিবিতান, খাদ্য পরীক্ষাগার, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল প্রকল্পের বিনিয়োগ বিনাশ হয়েছে। সিডিএ ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার পেছনে রয়েছে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা যাচাই না করা
চট্টগ্রামে ১৪২ কোটি টাকার বিনিয়োগে নির্মিত ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও এগুলোর কার্যকর ব্যবহার হচ্ছে না। সেতু, বিপণিবিতান, খাদ্য পরীক্ষাগার, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল প্রকল্পের বিনিয়োগ বিনাশ হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক সংযোগহীন সেতু, মাল্টিলেভেল পার্কিং, আধুনিক বিপণিবিতান, পরীক্ষাগার, ধুলা পরিষ্কারের গাড়ি এবং জলাশয় বর্জ্য সরানোর গাড়ি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামে ১৪২ কোটি টাকার ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও কার্যকর ব্যবহার হচ্ছে না
- 📌 সড়ক সংযোগহীন ৭০ মিটার দীর্ঘ সেতু চার বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে
- 📌 ২০১৭ সালে নির্মিত ৪ কোটি টাকার মাল্টিলেভেল পার্কিং কার্যকর নয়
- 📌 ৯৫ কোটি টাকার দুটি বিপণিবিতান চালু হয়নি; সল্টগোলা শপিং কমপ্লেক্সে ১৮৬টি দোকানের মধ্যে মাত্র ৮২টি বিক্রি হয়েছে
- 📌 ২০ কোটি টাকার খাদ্য পরীক্ষাগার ১০ বছরেও চালু হয়নি; জনবল নিয়োগের অনুমোদন অপেক্ষায়
- 📌 ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার ধুলা পরিষ্কারের গাড়ি কার্যকর নয়
- 📌 ভারত সরকারের উপহার আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়নি
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম নগরের রাজাখালী খালে নির্মিত ৭০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি চার বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় গাড়ি চলাচল সম্ভব নয়। এছাড়া চট্টগ্রামের নিউমার্কেটে নির্মিত মাল্টিলেভেল কার পার্কিংও কার্যকর নয়। ২০১৭ সালে নির্মিত এই সাততলা স্থাপনায় চার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কার্যত ব্যবহার হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্মিত ১১টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দুটি বিপণিবিতান, একটি খাদ্য পরীক্ষাগার, একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স, একটি খাবার পরীক্ষার গাড়ি, ছয়টি ধুলা পরিষ্কারের গাড়ি এবং একটি জলাশয় বর্জ্য সরানোর গাড়ি। এসব প্রকল্পে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সিডিএ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজস্ব তহবিলের অর্থ খরচ করেছে, অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রকল্পগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন ও উপহারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।
৯৫ কোটি টাকার দুটি বিপণিবিতান নির্মিত হলেও এগুলোর কার্যকর ব্যবহার হচ্ছে না। সল্টগোলা শপিং কমপ্লেক্সে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৮৬টি দোকানের মধ্যে মাত্র ৮২টি বিক্রি হয়েছে। বিপণিবিতান মার্চেন্ট ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, পাহাড় ঘেঁষে নির্মিত ভবনে প্রতিরোধদেয়াল না থাকায় পানি ঢুকে এসকেলেটর ও লিফট অচল হয়ে পড়েছে। সিডিএর চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন জানান, নিউমার্কেট বি-ব্লকে ব্যবসায়িক পরিবেশের অভাবের কারণে দোকান কিনে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সল্টগোলা শপিং কমপ্লেক্স আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের বিবিরহাটে নির্মিত ২০ কোটি টাকার আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগারও ১০ বছরেও চালু হয়নি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত এই পরীক্ষাগারে ৮২টি আধুনিক পরীক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, জনবল নিয়োগের অনুমোদন না থাকায় পরীক্ষাগার চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন জনবল নিয়োগের অনুমোদন অপেক্ষায় রয়েছে।
"এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে তার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা জরুরি।" — আকতার মাহমুদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (রাজাখালী খাল, নিউমার্কেট, বিবিরহাট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আকতার মাহমুদ (অধ্যাপক), খোরশেদ আলম চৌধুরী (মার্চেন্ট ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি), বেলায়েত হোসেন (সিডিএর চেয়ারম্যান), মোহাম্মদ ইমাম হোসেন (সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪২ কোটি টাকা (প্রকল্পের মোট ব্যয়), ৭০ মিটার (সেতুর দৈর্ঘ্য), ১১টি (অচল প্রকল্প), ৯৫ কোটি টাকা (বিপণিবিতান নির্মাণ ব্যয়), ১৮৬টি (সল্টগোলা শপিং কমপ্লেক্সের দোকান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!