📌 প্রথম আলো প্রযুক্তি ডেস্ক। ক্যালিফোর্নিয়ার আর্ভিনের উলেট অ্যাকুয়াটিকস সেন্টারে রোবোসাব ২০২৬—আয়োজক রোবোনেশন। ১১ জুলাই থেকে ৬ দিন, ৫৮টি দল। ব্র্যাকইউ ডুবুরি ৮ম—বাংলাদেশের ৩ দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। স্ট্যানফোর্ড, কার্নেগি মেলন, ডিউককে পেছনে ফেলে। রোবট: ডুবুরি ৪.৫ (মূল) ও ডুবোমিনি ২.০ (সহযোগী)। টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন ৬ষ্ঠ, ডিজাইন রিপোর্ট ১১তম, টিম ভিডিও ১২তম। মুখপাত্র তাহিরাহ জান্নাত—ভিসা জটিলতা, যন্ত্রাংশ নষ্ট, অসুস্থতা। সাপোর্ট পার্টনার অনার—আবদুল্লাহ আল মামুন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রোবোটিকস প্রতিযোগিতা 'রোবোসাব ২০২৬'-এ অষ্টম স্থান অর্জন করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অটোনমাস আন্ডারওয়াটার রোবোটিকস দল 'ব্র্যাকইউ ডুবুরি'। নিজেদের তৈরি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বা অটোনমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (এইউভি) নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া তিনটি দলের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানও অর্জন করেছে দলটি। স্ট্যানফোর্ড, কার্নেগি মেলন ও ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে এই গৌরব অর্জন করেছে ব্র্যাকইউ ডুবুরি। ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ছয় দিনের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৫৮টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অষ্টম স্থান অর্জন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- দল: ব্র্যাকইউ ডুবুরি—ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোনমাস আন্ডারওয়াটার রোবোটিকস দল।
- প্রতিযোগিতা: রোবোসাব ২০২৬—বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অটোনমাস আন্ডারওয়াটার রোবোটিকস প্রতিযোগিতা; আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের 'রোবোনেশন'।
- স্থান: ক্যালিফোর্নিয়ার আর্ভিনের উলেট অ্যাকুয়াটিকস সেন্টার—১১ জুলাই থেকে ছয় দিন।
- ফলাফল: অষ্টম স্থান—৫৮টি দলের মধ্যে; বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া তিনটি দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
- পেছনে ফেলা: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি, ডিউক ইউনিভার্সিটি।
- রোবট: 'ডুবুরি ৪.৫' (মূল ডুবোযান—সর্বশেষ সংস্করণ, টানা কয়েক বছরের গবেষণায় তৈরি) এবং 'ডুবোমিনি ২.০' (ছোট ও দ্রুতগতির সহযোগী রোবট)।
- কারিগরি বিভাগ: টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশনে ৬ষ্ঠ, টেকনিক্যাল ডিজাইন রিপোর্টে ১১তম, টিম ভিডিও বিভাগে ১২তম।
- মুখপাত্র: তাহিরাহ জান্নাত—ভিসা জটিলতা, যন্ত্রাংশ নষ্ট, সদস্যদের অসুস্থতা পেরিয়ে সাফল্য।
- সাপোর্ট পার্টনার: অনার—হেড অব বিজনেস আবদুল্লাহ আল মামুন।
রোবোসাব ২০২৬: বিশ্বের সেরা রোবোটিকস প্রতিযোগিতা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—রোবোসাব হলো বিশ্বের অন্যতম সেরা ও মর্যাদাপূর্ণ অটোনমাস আন্ডারওয়াটার রোবোটিকস প্রতিযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের 'রোবোনেশন' প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। এ বছরের মূল পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় ক্যালিফোর্নিয়ার আর্ভিনের উলেট অ্যাকুয়াটিকস সেন্টারে। ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ছয় দিনের এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫৮টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে ব্র্যাকইউ ডুবুরি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রোবোটিকস সংগঠন রোবোনেশন প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এবারের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ক্যালিফোর্নিয়ার আর্ভিনের উলেট অ্যাকুয়াটিকস সেন্টারে। প্রতিযোগিতায় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ও ডিউক ইউনিভার্সিটির মতো খ্যাতনামা বহু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে এই গৌরব অর্জন করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল।
'ডুবুরি ৪.৫' ও 'ডুবোমিনি ২.০'
পানির নিচে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম দুটি স্বয়ংক্রিয় রোবট নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ব্র্যাকইউ ডুবুরি। দলের মূল রোবট 'ডুবুরি ৪.৫' তাদের ডুবোযান প্ল্যাটফর্মের সর্বশেষ সংস্করণ। টানা কয়েক বছরের গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে ছিল তুলনামূলক ছোট ও দ্রুতগতির রোবট 'ডুবোমিনি ২.০'—যা মূল ডুবোযানটির সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
পানির নিচের মিশনের পাশাপাশি অন্যান্য কারিগরি বিভাগেও ভালো করেছে দলটি। টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশনে ষষ্ঠ, টেকনিক্যাল ডিজাইন রিপোর্টে ১১তম এবং টিম ভিডিও বিভাগে ১২তম স্থান অর্জন করে ব্র্যাকইউ ডুবুরি। এই বহুমুখী সাফল্য দেখায় যে দলটি কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতায় নয়—বরং যোগাযোগ, ডিজাইন ডকুমেন্টেশন ও উপস্থাপনেও শক্তিশালী।
তাহিরাহ জান্নাত: 'ভিসা জটিলতা থেকে অসুস্থতা পর্যন্ত'
প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ব্র্যাকইউ ডুবুরি দলের মুখপাত্র তাহিরাহ জান্নাত বলেছেন, 'প্রতিযোগিতার এই পর্যায়ে পৌঁছানো আমাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ভিসা জটিলতা, যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে দলের সদস্যদের অসুস্থতা পর্যন্ত নানা বাধা পেরিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হয়েছে। তবে বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিশ্রমের ফল পাওয়ার পর পেছনের সব কষ্টই সার্থক মনে হচ্ছে।'
তাহিরাহর এই বক্তব্য দেখায় যে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কতটা কঠিন—ভিসা জটিলতা একটি সাধারণ বাধা যা অনেক বাংলাদেশি দলকে প্রতিযোগিতা থেকে বঞ্চিত করে। ব্র্যাকইউ ডুবুরি এই বাধাগুলো পেরিয়ে বিশ্বের ৫৮টি দলের মধ্যে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে—যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
অনার: সাপোর্ট পার্টনার
ব্র্যাকইউ ডুবুরির এই যাত্রায় অফিশিয়াল সাপোর্ট পার্টনার ছিল অনার। অনার বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, 'তরুণ উদ্ভাবকদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে উৎসাহিত করে এমন উদ্যোগের পাশে থাকতে পেরে অনার গর্বিত। ব্র্যাকইউ ডুবুরিকে সহযোগিতা করা আমাদের সেই অঙ্গীকারেরই অংশ। এর মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীদের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করতে এবং দেশের উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।'
কর্পোরেট সাপোর্ট ছাড়া এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন—যন্ত্রাংশ ক্রয়, ভ্রমণ খরচ ও ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন। অনারের সাপোর্ট ব্র্যাকইউ ডুবুরিকে এই বাধাগুলো অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে।
'প্রতিযোগিতার এই পর্যায়ে পৌঁছানো আমাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ভিসা জটিলতা, যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে দলের সদস্যদের অসুস্থতা পর্যন্ত নানা বাধা পেরিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হয়েছে। তবে বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিশ্রমের ফল পাওয়ার পর পেছনের সব কষ্টই সার্থক মনে হচ্ছে।'—তাহিরাহ জান্নাত, মুখপাত্র, ব্র্যাকইউ ডুবুরি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!