📌 রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি শিশু ভর্তি থাকায় এক শয্যায় তিন-চার শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৮৬টি শয্যার ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ২৬০-৩০০ শিশু ভর্তি থাকলেও মাত্র ৫০ জন নার্সের চাপে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। ১০০ শয্যার নতুন শিশু হাসপাতাল নির্মিত হলেও তা চালু হয়নি
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসা সংকটের চরম অবস্থায় পড়েছে। ধারণক্ষমতার অনেক বেশি শিশু ভর্তি থাকায় এক শয্যায় তিন-চার শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের মেঝেতেও চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত শিশু বিভাগে মোট শয্যা ৮৬টি। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে ২৬০ থেকে ৩০০ শিশু ভর্তি হয়। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের চাপ বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে মোট ৫৯ শিশু মারা গেছে, যাদের মধ্যে কোনো একজনই হামে আক্রান্ত ছিলেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে ৮৬টি শয্যায় গড়ে ২৬০-৩০০ শিশু ভর্তি — এক শয্যায় তিন-চার শিশু চিকিৎসা পাচ্ছে
- 📌 ১৫০ নার্সের বিপরীতে মাত্র ৫০ জন কর্মরত — চিকিৎসা ও নার্সিং চাপে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে
- 📌 গত সেপ্টেম্বরে ৫৯ শিশু মারা গেছে — কোনো শিশুই হামে আক্রান্ত ছিলেন না
- 📌 ১০০ শয্যার নতুন শিশু হাসপাতাল নির্মিত হলেও ৭ বছর ধরে চালু হয়নি — প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও সরঞ্জামের অভাব
- 📌 ফটোথেরাপি যন্ত্রের সংখ্যা কম — একই যন্ত্রে একসাথে দুটি শিশু চিকিৎসা পাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্ধারিত শয্যার তুলনায় শিশু রোগীর চাপ অনেক বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শয্যায় তিন-চারজন বা তারও বেশি রোগী রাখতে হয়। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর চাপ বাড়ে। পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসসহ সংক্রামক রোগের রোগী থাকায় অতিরিক্ত ভিড়ে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।’
কুড়িগ্রামের কচাকাটা থেকে চার মাস বয়সী শিশু নিয়ে এসেছেন সুমি আক্তার। তাঁর সন্তান নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। প্রথম তিন দিন মেঝেতে কাটিয়েছে। পরে একটি শয্যায় জায়গা পেলেও সেখানে আরও তিন শিশু রয়েছে। সুমি বলেন, ‘বাচ্চার শ্বাসকষ্ট। বেডোত জায়গা পাইনি। এত বড় হাসপাতালে বাচ্চার থাকার জায়গা নাই।’
রংপুর সদরের মমিনপুরের মমতা বেগম সাত দিন ধরে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন। তিনি বলেন, ‘ভালো চিকিৎসার জন্য এখানে আসছি। কিন্তু জায়গা নাই। বাচ্চাক নিয়া খুব দুশ্চিন্তায় আছি। প্রতিদিন দু-তিনটা বাচ্চা মারা যায়।’
শিশু বিভাগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ ডলি খাতুন জানান, তাঁর ওয়ার্ডে শয্যা ৪০টি। অথচ ভর্তি রোগী থাকে প্রায় ১৮০ জন। শীত এলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নার্সের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফটোথেরাপি যন্ত্রের সংখ্যা কম থাকায় জন্ডিসে আক্রান্ত নবজাতকদের চিকিৎসায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। গাইবান্ধা থেকে নবজাতক সন্তান নিয়ে ৩১ দিন ধরে রমেকে আছেন ইসমাইল হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, একই ফটোথেরাপি মেশিনে একসঙ্গে দুটি শিশুকে রাখা হচ্ছে।
"নির্ধারিত শয্যার তুলনায় শিশু রোগীর চাপ অনেক বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শয্যায় তিন-চারজন বা তারও বেশি রোগী রাখতে হয়। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর চাপ বাড়ে। পাশাপাশি সংক্রামক রোগের রোগী থাকায় অতিরিক্ত ভিড়ে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।"
ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু বিভাগ (৮, ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী (সহকারী অধ্যাপক), সুমি আক্তার, মমতা বেগম, ডলি খাতুন (নার্স ইনচার্জ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৬টি শয্যা, ২৬০-৩০০ শিশু ভর্তি, ১৫০ নার্সের বিপরীতে ৫০ জন কর্মরত, ৫৯ শিশু মারা গেছে, ১০০ শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মিত হলেও চালু হয়নি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!