📌 রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নামে থাকা ১৫টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৬টিতে ভাড়াটেরা বসবাস করছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই অনিয়ম চলছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সরেজমিন যাচাই করেনি
রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নামে থাকা ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়াটেরা বসবাস করছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই অনিয়ম চললেও কর্তৃপক্ষ সরেজমিন যাচাই করেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরে ডাক বিভাগের পোস্টাল স্টাফ কোয়ার্টারের ১৫টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৬টিতে ভাড়াটেরা বসবাস করছে।
- 📌 সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভাড়াটেদের সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
- 📌 বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভাড়াটে থাকার বিষয় স্বীকার করেছেন এবং তাদের চলে যেতে বলার কথা জানিয়েছেন।
- 📌 রংপুর বিভাগীয় অফিসের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল ইসরাত জাহান নূর বলেছেন, প্রত্যয়ন নেওয়া হলেও সরেজমিন যাচাই করা হয়নি।
- 📌 চারতলা ও তিনতলা ভবনের ১৫টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৬টি বহিরাগতদের ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ফ্ল্যাটে সাবলেট দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নামে থাকা ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়াটেরা বসবাস করছে। রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ পেয়েও সেখানে থাকছেন না ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে। নিজেদের নামে বরাদ্দ নেওয়া ফ্ল্যাট ভাড়া ও সাবলেট দিয়েছেন তাঁরা।
নগরীর ধাপ এলাকায় ডাক বিভাগের পাঁচটি পোস্টাল কোয়ার্টার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দুটি পরিত্যক্ত। বাকি তিনটির একটি চারতলা ও একটি তিনতলা ভবনে মোট ১৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ফ্ল্যাটের মধ্যে ৬টি বহিরাগতদের ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চারতলা কোয়ার্টারে গিয়ে ৮টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৪টিতে ভাড়াটে পাওয়া যায়। পাশের তিনতলা ভবনের ৬টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১টিতে ভাড়াটে এবং ২টি ফ্ল্যাটে সাবলেটে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়া যায়। পাশের আরেকটি কোয়ার্টারের ১টি ফ্ল্যাটেও ভাড়াটে রয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
চারতলা কোয়ার্টারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা ডাকঘরের পোস্টম্যান শরিফুল ইসলামের নামে। তবে সেখানে থাকছেন স্কুলশিক্ষিকা আফরোজা খাতুন বেবি। একই তলার আরেকটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে রংপুর প্রধান ডাকঘরের অপারেটর তৌহিদুল ইসলামের নামে। সেখানে থাকছেন লাভলী বেগম, যিনি বলেছেন, ‘আমার স্বামী নেই। তৌহিদুলের নামে বরাদ্দ থাকলেও এখানে আমি থাকি। সরকারি ভাড়া যেটা কাটে, সেটা তাঁকে দিই।’
একই ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ রয়েছে রংপুর প্রধান ডাকঘরের প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার লুৎফর হাবিব রানার নামে। ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিয়েছেন জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে। অন্য একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ রয়েছে রংপুর বিভাগীয় পোস্ট অফিসের অফিস সহায়ক জহির উদ্দিনের নামে, সেখানে বসবাস করছেন সুমাইয়া আক্তার শিমু।
পাশের তিনতলা কোয়ার্টারের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে ডাক জীবনবিমা রংপুরের সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. সবুজ আহমেদ সবুরের নামে। সেখানে পরিবার নিয়ে থাকছেন ফজলুল হক, যিনি বলেছেন, ‘আমি ভাড়ায় থাকি। মাসে ছয় হাজার টাকা ভাড়া দিই।’
"আমাকে এখন ক্রসচেক করতে হবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী যে ব্যবস্থা হবে, তা-ই নেওয়া হবে।"
— ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল ইসরাত জাহান নূর
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর, ধাপ এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল ইসরাত জাহান নূর, মো. সবুজ আহমেদ সবুর, জহির উদ্দিন, তৌহিদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫টি ফ্ল্যাট, ৬টি ভাড়াটে ফ্ল্যাট, ৩১ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!