📌 ১৪৭ কোটি টাকার সংস্কার পর ওসমানী উদ্যান আবার জনসাধারণের জন্য খোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯ অক্টোবর উদ্বোধন করেন। নতুন নকশায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ, পাঁচটি জলাশয় ও কংক্রিটের পথ যুক্ত হলেও ঐতিহাসিক গাছপালা কতটা অটুট তা প্রশ্নবিদ্ধ
১৪৭ কোটি টাকার সংস্কার পর ঢাকার ওসমানী উদ্যান আবার জনসাধারণের জন্য খোলা হয়েছে। এই উদ্যানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯ অক্টোবর সংস্কারকৃত উদ্যান ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন। পরদিন উদ্যানটি জনসাধারণের জন্য খোলা হয়। তবে নতুন নকশায় কতটা বজায় আছে ঐতিহাসিক সবুজ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা ওসমানী উদ্যান ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে উদ্বোধিত হয়
- 📌 ৯০ ফুট উচ্চতার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ৮৩৪ জনের নাম ধাতব পাতে খোদাই করে
- 📌 ৩.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নতুন পথ ও ৫টি জলাশয় যুক্ত হয়েছে সংস্কারকৃত উদ্যানে
- 📌 মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য উদ্যান ১১ ভাগে বিন্যস্ত ছিল
- 📌 বিবি মরিয়ম কামান স্থানান্তরিত হয়েছে ঢাকা গেটের পাশে
📰 বিস্তারিত
ওসমানী উদ্যানের ইতিহাসে একসময় পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, লেখক ও নাগরিকরা ১১ হাজার গাছ বাঁচাতে আন্দোলন চালিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর এই উদ্যান দখল, অবৈধ দোকান, মাদকসেবন ও নিরাপত্তাহীনতার সমস্যায় জর্জরিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর সংস্কার শেষে আবার জনসাধারণের জন্য খোলা হয়েছে।
উদ্যানের ঐতিহাসিক পরিচয়ে নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের মাধ্যমে। ৯০ ফুট উচ্চতার এই স্মৃতিস্তম্ভে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ৮৩৪ জনের নাম ধাতব পাতে খোদাই করা হয়েছে। সামনে রয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক। পুলিশ সদর দফতরের বিপরীতে প্রধান প্রবেশপথে ‘২৪’-এর অবয়ব কংক্রিটের নকশায় স্মরণীয় ঘটনাটি চিহ্নিত করা হয়েছে।
নতুন নকশায় উদ্যানের ৩.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পথের মধ্যে রয়েছে দু’স্তরের চলাচল ব্যবস্থা। কংক্রিটের পথের পাশাপাশি মাটির পথও রয়েছে। জলাশয়ের মধ্যে গোলাকার কংক্রিটের কাঠামো, গাছ ও পানি নিয়ে নতুন নকশা তৈরি করা হয়েছে। ৫টি জলাশয় নির্মাণের মাধ্যমে উদ্যানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও গ্রন্থাগার, ব্যায়ামাগার, নগর জাদুঘর, শিশুদের খেলার ব্যবস্থা ও ইনডোর গেমসের এলাকা যুক্ত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামানুসারে এই উদ্যানের নামকরণ করা হয়েছে। উদ্যানের ১১ ভাগে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের স্মৃতি ধরে রাখা হয়েছিল। পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই উদ্যানে ছিল খোলা গাছপালা, দু’টি ছোট লেক, বালুর দ্বীপ ও ভাস্কর্য। তবে বিবি মরিয়ম কামান স্থানান্তরিত হয়েছে ঢাকা গেটের পাশে।
"পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে ওসমানী উদ্যানের গাছপালা ও সবুজায়ন নগরবাসীদের জন্য স্বস্তির পরিসর হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওসমানী উদ্যান, ঢাকা (বাংলাদেশ সচিবালয় ও নগর ভবনের মাঝখানে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জেনারেল এম এ জি ওসমানী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৭ কোটি টাকা (সংস্কার ব্যয়), ৯০ ফুট (জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উচ্চতা), ৮৩৪ জন (জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!