📌 বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ২০১৫ সাল থেকে প্রায় তিনগুণে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলারে। ২০২৫ সালে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধির ফলে মাথাপিছু ঋণও বেড়েছে ৬৪৫ ডলারে
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’ প্রকাশের পর বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের অবস্থা চিত্রিত হয়েছে। গত ১০ বছরের মধ্যে দেশের বৈদেশিক ঋণ প্রায় তিনগুণে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলারে। ২০১৫ সালে ঋণের স্থিতি ছিল মাত্র ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের শেষে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান পরিমাণে পৌঁছেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলার, বর্তমানে ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলারে বেড়েছে — প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি
- 📌 ২০২৫ সালের শেষে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৫ ডলারে (গত বছরের তুলনায় ৪৫ ডলার বেশি)
- 📌 সরকারি ও সরকারের গ্যারান্টিতে বৈদেশিক ঋণ ৮ হাজার ৯৫১ কোটি ডলার, বেসরকারি খাতের ঋণ ৯৮৭ কোটি ডলার
- 📌 বিশ্বব্যাংক থেকে ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার, জাপান থেকে ১ হাজার ২৭২ কোটি ডলার এবং রাশিয়া থেকে ৯০২ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হয়েছে
- 📌 মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অনুপাত ২৪ শতাংশ — গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংকের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ২০২৫ সালের শেষে ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের তুলনায় ঋণের স্থিতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৫৭ লাখে, যার ফলে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৫ ডলারে। গত বছরের একই সময়ে মাথাপিছু ঋণ ছিল ৬০০ ডলার।
বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি খাতের ঋণ ৮ হাজার ৯৫১ কোটি ডলার, যেখানে বহুপাক্ষিক সংস্থা যেমন বিশ্বব্যাংক থেকে ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার এবং দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে ৩ হাজার ২৬৫ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (আইডিএ) থেকে ২ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৭৫২ কোটি ডলার এবং অন্যান্য সংস্থা থেকে ১ হাজার ৯৯ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে জাপান থেকে ১ হাজার ২৭২ কোটি ডলার এবং রাশিয়া থেকে ৯০২ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি খাতের ঋণের স্থিতি ৯৮৭ কোটি ডলারে রয়েছে। স্বল্প মেয়াদি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৬ কোটি ডলারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অনুপাত ২৪ শতাংশ — যা গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে রফতানি আয়ের বিপরীতে ঋণ পরিশোধের অনুপাত ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কম।
"দেশের মোট জাতীয় আয়ের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অনুপাত এখনও সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। তবে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক ঋণ বাড়ার তুলনায় কম হওয়ায় ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: (প্রতিবেদন বিশ্লেষণাত্মক, কোনো ব্যক্তি উল্লেখ নেই)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলার (বৈদেশিক ঋণ), ৬৪৫ ডলার (মাথাপিছু ঋণ), ২৪ শতাংশ (জিএনআই অনুপাত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!