📌 খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগে ২ কোটি ১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চাল ও ধান আত্মসাতের সন্দেহে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
কুড়িগ্রামে সরকারি চাল ও ধানের আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, অভিযোগে সরকারি খাদ্যশস্য মজুত ও সংগ্রহের নথিতে অসংগতি সৃষ্টি করে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪ কর্মকর্তা আসামি**: কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের মো. শরীফ আহমেদ, লালমনিরহাটের মো. হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মো. হালিমুর রহমান ও মোহাম্মদ হামিদুল হক
- 📌 **মোট আত্মসাত মূল্য**: ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা
- 📌 **অভিযোগের মূল বিষয়**: চাল ও ধানের মজুতের নথি-বাস্তব মিলে না, ৪২.২০৫ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ মেট্রিক টন ধান অদৃশ্য
- 📌 **জব্দকৃত চাল**: শিশু নিকেতন ব্লকের ১১৯ মেট্রিক টন চাল নথি বহির্ভূতভাবে পাওয়া যায়
- 📌 **আইনি পদক্ষেপ**: দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী মামলা
📰 বিস্তারিত
দুদকের তদন্তে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি চাল ও ধানের মজুতের নথি পর্যালোচনা করে অসংগতি পাওয়া যায়। বিশেষত, চালের মজুতের নথি ও বাস্তব মজুতের মধ্যে ৪২.২০৫ মেট্রিক টন ঘাটতি দেখা দেয়। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ৫৮ হাজার ৩১৮ টাকা ৯৮ পয়সা হিসাবে এই ঘাটতির মূল্য দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা।
তদন্তে আরও দেখা যায়, খলিলগঞ্জ ব্লকের টিএফএস-৭ নম্বর গুদামে ৭১১ মেট্রিক টন ধানের সংগ্রহের নথি থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১৯০ মেট্রিক টন পাওয়া যায়। বাকি ৫০ মেট্রিক টন ধানের সন্ধান মিলেনি। কর্মকর্তারা দাবি করেন, ধানগুলো ছাঁটাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু মিলের মালিক মো. মুকুল সরকার নিশ্চিত করেন কোনো ধান পাঠানো হয়নি।
শিশু নিকেতন ব্লকের এসএফ-৩ নম্বর গুদামে ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুত পাওয়া যায়, কিন্তু কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ। এই চালগুলো ১২ জানুয়ারি জব্দ করা হয়। দুদকের অভিযোগ, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশ করে সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাত করেছেন।
"গুদামের নথি ও বাস্তব মজুতের মধ্যে অসংগতি সৃষ্টি করে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদাম, খলিলগঞ্জ ব্লক, শিশু নিকেতন ব্লক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আকতারুল ইসলাম (দুদকের উপপরিচালক), মো. শরীফ আহমেদ, মো. হেলাল উদ্দিন, মো. হালিমুর রহমান, মোহাম্মদ হামিদুল হক, মো. মুকুল সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২.২০৫ মেট্রিক টন চাল, ৫০ মেট্রিক টন ধান, ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!