📌 সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রায় দিয়েছে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের চাকরিকালের ব্যাখ্যা নিয়ে। রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয়করণের আগের চাকরিকালের অর্ধেক গণনার সুবিধা কেবল তাদের নিজেদের মধ্যে প্রযোজ্য। ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রায় দিয়েছে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরিকাল ও জ্যেষ্ঠতার ব্যাখ্যা নিয়ে। রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জাতীয়করণের আগের চাকরিকালের অর্ধেক গণনার সুবিধা কেবল জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে প্রযোজ্য। এ রায়ের ফলে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আপিল বিভাগের ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয়করণের আগের চাকরিকালের অর্ধেক গণনার সুবিধা কেবল জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে প্রযোজ্য।
- 📌 ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 জাতীয়করণের আগের চাকরিকালের অর্ধেক গণনার সুবিধা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল, যার আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।
- 📌 প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের পূর্বের রায় বাতিল করে নতুন রায় দিয়েছে।
- 📌 জাতীয়করণের আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের দাবি তুলে আবেদনকারীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশনা হাইকোর্টের রায় আইনগত ভুল বলে আপিল বিভাগ ঘোষণা করেছে।
📰 বিস্তারিত
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরিকালের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয়করণের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের আগের চাকরিকালের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকের নিচে রাখার রায় গত ২ জুলাই বাতিল করা হয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি বা তার পরে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের চেয়ে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকরা জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে থাকবেন।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাই কোর্টের রায় বাতিল করে নতুন রায় দেয়। বেঞ্চের অন্যান্য বিচারক ছিলেন মো. আশফাকুল ইসলাম, মো. রেজাউল হক এবং ফারাহ মাহবুব। রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয়করণের আগের চাকরিকালের অর্ধেক গণনার সুবিধা কেবল জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয়করণের আগের চাকরিকাল গণনার সুবিধা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল, যার আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা, সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক দায় এবং সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত শিক্ষাসংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় নীতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, জাতীয়করণের আগের চাকরির মেয়াদের অর্ধেক কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণনার বিধান রয়েছে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদমর্যাদার দাবিও খারিজ করা হয়েছে। জাতীয়করণের আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের দাবি তুলে কয়েকজন শিক্ষক ওই পদমর্যাদা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তারা এমপিওভুক্ত বেতনের বাইরে মাসে অতিরিক্ত ৫০ টাকা পেতেন।
"২০০৮ সালের ১৪ জুলাইয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আবেদনকারীরা সেই অনুমোদনের প্রমাণ দিতে পারেননি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ পৃষ্ঠা, ৩২ হাজার স্কুল, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি, ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি, ১৭ অনুচ্ছেদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!