📌 খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জন কর্মকর্তা ও ২ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে। প্রকল্পে ১৩ কোটি টাকার বিল অনিয়মিতভাবে অনুমোদিত ও ১১ কোটি টাকা রাজস্ব ছাড় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রোববার (২৫ অক্টোবর) দুটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলায় কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জন কর্মকর্তা ও ২ জন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান বাদি হয়ে খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুদক খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে ৮ জন কর্মকর্তা ও ২ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ২টি মামলা দায়ের করেছে
- 📌 একটি মামলায় কাজ না করেই ঠিকাদারকে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল প্রদানের অভিযোগ, আরেকটি মামলায় ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব ছাড় দেওয়ার অভিযোগ
- 📌 আসামিরা: কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান ও মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমান
- 📌 প্রকল্পে ১৩ কোটি টাকার বিল তৈরির নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান ও সচিব, বিল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সদস্য ও সচিবের স্বাক্ষর থাকলেও প্রকৌশলীদের কোনো ভূমিকা ছিল না
- 📌 প্রকল্পের ব্যয় ২০১৩ সালে ৯৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকা, কাজও ১৩ বছর পরও শেষ হয়নি
📰 বিস্তারিত
দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের বাদি মামলায় দুটি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকল্পে কাজ না করেই ঠিকাদারকে এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে। আরেকটি মামলায় অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারের অনুকূলে অর্থ ছাড় করে ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান ও মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমানও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির তিন সদস্যসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কেডিএর সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহমুদুর রহমান ও সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন এবং সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে এবং বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে কেডিএতে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
কেডিএর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প চলাকালে পুরো বিষয়টি দেখভাল করতেন চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। সরকারি দলের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে ঠিকাদার মাহবুবুর রহমান প্রকৌশলীদের পাত্তা দিতেন না। কাজে কোনো ভুল হয়েছে, সেটি সংশোধন বা চিঠি দিতে ভয়ে থাকতেন দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা। বিল থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বেশিরভাগই চেয়ারম্যান ও সচিব নিতেন।
"প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ থাকা ১৩ কোটি টাকার বিল তৈরির নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান ও সচিব। তাদের নির্দেশে নিচের প্রকৌশলীরা বিল তৈরি করে।"
দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, মামলার তদন্তকালে যদি অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরও আসামি করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা, শিপইয়ার্ড সড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আশিকুর রহমান (দুদক), কাজী সাবিরুল আলম (কেডিএ প্রধান প্রকৌশলী), মো. আতাউর রহমান (ঠিকাদার চেয়ারম্যান), শেখ মাহাবুব রহমান (ঠিকাদার ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ জন কর্মকর্তা, ২টি মামলা, ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল, ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব ছাড়, ১৩ কোটি টাকা বিল, ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!