📌 অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই এক বছর ছয় মাস কর্মস্থল ছেড়ে দাঁড়ানোর জন্য অতিরিক্ত সচিব মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সরকার তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত এবং অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময়কে অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করেছে
অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই এক বছর ছয় মাস কর্মস্থল ছেড়ে দাঁড়ানোর জন্য অতিরিক্ত সচিব মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড আরোপ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অতিরিক্ত সচিব মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকার তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে।
- 📌 ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৮ জুন পর্যন্ত মেহেদী হাসান অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই কর্মস্থল ছেড়ে দাঁড়িয়েছিলেন — মোট ১ বছর ৬ মাস ৩ দিন।
- 📌 সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য দাবি করা সত্ত্বেও, সরকার তার অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময়কে অসাধারণ ছুটি (বিনা বেতনে) হিসেবে গণ্য করেছে।
- 📌 ২০২৫ সালের ১৯ জুন মেহেদী হাসান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে যোগদানপত্র জমা দেন, কিন্তু তার আগে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন দূতাবাস থেকে অবমুক্ত করা হয়েছিল।
- 📌 ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
📰 বিস্তারিত
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত সচিব মো. মেহেদী হাসান ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর তিনি ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন, কিন্তু অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ তার আবেদন নামঞ্জুর করে দেশে ফিরে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়।
২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর মেহেদী হাসানকে ওয়াশিংটন দূতাবাস থেকে অবমুক্ত করা হলেও তিনি দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগদান করেননি। ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ করে এক বছর ছয় মাস তিন দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর ২০২৫ সালের ১৯ জুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে যোগদানপত্র জমা দেন।
অভিযোগ তদন্তে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত ৬০ দিনের বেশি অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়টি উল্লেখ করার কারণে লঘুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
"সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮' অনুযায়ী অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই কর্মস্থল ছেড়ে দাঁড়ানোর কারণে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা), যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন ডিসি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অতিরিক্ত সচিব মো. মেহেদী হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ বছর ৬ মাস ৩ দিন (অননুমোদিত অনুপস্থিতি), ২০২৫ সালের ১৯ জুন (যোগদানপত্র জমা), ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল (তদন্ত প্রতিবেদন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!