📅 ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

বাঁ হাতের অভাব সত্ত্বেও জিতেছেন জীবনের লড়াই: কক্সবাজারের প্রতিবন্ধী মেয়েটি চাকরিজীবী হয়ে উঠেছেন

বাঁ হাতের অভাব সত্ত্বেও জিতেছেন জীবনের লড়াই: কক্সবাজারের প্রতিবন্ধী মেয়েটি চাকরিজীবী হয়ে উঠেছেন

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 জন্মগতভাবে বাঁ হাতের অর্ধেক না থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজারের নাজমা আকতার পড়াশোনা ও চাকরির পথে অগ্রসর হন। কটু কথা ও সমাজের চাপের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত

জন্মগতভাবে বাঁ হাতের অর্ধেক না থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজারের একটি প্রতিবন্ধী মেয়েটি নিজের কষ্টকে জয় করে বর্তমানে চাকরিজীবী হয়ে উঠেছেন। ২৮ বছর বয়সী নাজমা আকতার চকরিয়া পৌরসভার দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা এলাকার ছালাম মাস্টারপাড়ায় বাস করেন। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 জন্ম থেকেই বাঁ হাতের কনুই পর্যন্ত নেই নাজমা আকতার, কিন্তু তিনি পড়াশোনা ও চাকরির পথে অগ্রসর হন
  • 📌 স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কটু কথা শুনতে থাকলেও তিনি দমে যাননি এবং উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন
  • 📌 ২০২১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত
  • 📌 ১৪ মাস বয়সী একটি সন্তানের মা নাজমা, স্বামীর ও পরিবারের সমর্থনে জীবনের লড়াইয়ে জয়ী হন
  • 📌 প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বলেন, ‘নাজমা আকতার প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন এবং একক হাতেই নিজের কাজ সারেন’

📰 বিস্তারিত

জন্ম থেকেই বাঁ হাতের অর্ধেক না থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা এলাকার ছালাম মাস্টারপাড়ায় বাসকারী নাজমা আকতার (২৮) নিজের জীবনের লড়াইয়ে জয়ী হন। জন্মের পর থেকেই তাঁর বাঁ হাতের কনুই পর্যন্ত নেই। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা তাঁকে প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করতেন এবং তাঁর পরিবারকে সতর্ক করতেন যে, ‘ও তো প্রতিবন্ধী, ওকে দিয়ে কিছু হবে না’।

তবে নাজমা আকতার এমন কটু কথা শুনেও দমে যাননি। তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর বাবা নাছির উদ্দিন বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবং মা নুর আয়েশা বেগম গৃহিণী। নাজমা ২০১৩ সালে চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৫ সালে চকরিয়া কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি, ২০২০ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন।

নাজমা বলেন, ‘প্রতিবন্ধিতা জয় করে আজ আমি নিজের এলাকায় ভালো বেতনে চাকরি করছি। ছোট থেকেই মানুষের অনেক কটু কথা শুনেছি। কষ্ট পেলেও আমি দমে যাইনি। এখন আর কেউ কটু কথা বলেন না। মূল কথা, একাগ্রতা নিয়ে পড়াশোনা করলে সমাজ জয় করা কোনো ব্যাপারই নয়।’

নাজমা শৈশবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কটু কথা শুনতেন। একবার এলাকার এক নারী তাঁর মাকে বলেছিলেন, “মেয়েটির একটি হাত নেই, বড় হয়ে কী হবে। বড় হলে বিয়ে হবে না, সারা জীবন তাঁকে পালতে হবে।” তবে তাঁর মা-বাবা তাঁকে পড়াশোনা করানোর সংকল্প দৃঢ় করেন। পড়াশোনার পথে সহায়তা করার জন্য নাজমা উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই টিউশনি করতেন এবং স্নাতকে পড়ার সময় লজিংয়ে থাকতেন। তিনি পড়াশোনায় উপবৃত্তি ও সরকার থেকে পাওয়া প্রতিবন্ধী ভাতা ব্যবহার করেছেন।

"মেয়েটির একটি হাত নেই, বড় হয়ে কী হবে। বড় হলে বিয়ে হবে না, সারা জীবন তাঁকে পালতে হবে।"

২০২৩ সালে নাজমা মিরাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে করেন। তাঁর স্বামী চকরিয়া পৌরসভায় একটি শপিং মলে প্রসাধনীর দোকান পরিচালনা করেন। বর্তমানে তাঁদের সংসারে ১৪ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। নাজমা বলেন, ‘আমার শ্বশুর-শাশুড়ি খুবই ভালো মানুষ। তাঁদের সহযোগিতা আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। আমার স্বামী সব সময় আমাকে সাহস জুগিয়েছেন। তাঁর সাপোর্ট না থাকলে আমার পক্ষে এই দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হতো না।’

নাজমা বর্তমানে ‘সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফর দ্য ফিজিক্যালি ভালনারেবল’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক পরিচালক কাজী মাকসুদুল হক বলেন, ‘কাজে দক্ষতায় নাজমা আকতার একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ, কারও মনে হবে না। তিনি একটি হাত নিয়েই নিজের কাজ সারেন, অফিস সামলান। এককথায়, তিনি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন।’

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: কক্সবাজার, চকরিয়া পৌরসভা, দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা, ছালাম মাস্টারপাড়া
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজমা আকতার (২৮), নাছির উদ্দিন (বাবা), নুর আয়েশা বেগম (মা)
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ বছর বয়স, ১৪ মাস বয়সী সন্তান, ২০১৩ (এসএসসি), ২০১৫ (এইচএসসি), ২০২০ (স্নাতক), ২০২১ (স্নাতকোত্তর)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖