📌 ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে অংশ নেন মেক্সিকোপ্রবাসী হেক্টর জেলাদা। কিন্তু তিনি কখনো আর্জেন্টিনার জাতীয় জার্সি গায়ে মাঠে নামেননি। ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’-এর সেই বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি পর্দার আড়ালে জার্সি বানিয়ে দেন
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ম্যাচে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’-এর পেছনে লুকিয়ে ছিল একটি অদ্ভুত গল্প। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামেননি, কিন্তু বিশ্বকাপের পদক জিতেছেন একজন গোলরক্ষক। তার নাম হেক্টর জেলাদা। তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলরক্ষক, কিন্তু কখনোই আর্জেন্টিনার জাতীয় জার্সি গায়ে মাঠে নামেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হেক্টর জেলাদা** ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে অংশ নেন, কিন্তু কখনো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামেননি
- 📌 **ম্যারাডোনার ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’**-এর সেই ম্যাচে তিনি পর্দার আড়ালে নীল জার্সি বানিয়ে দেন, যা পরে ফুটবল ইতিহাসে আলোচিত হয়
- 📌 **মেক্সিকোপ্রবাসী** জেলাদা আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জন্য কোনো প্রীতি ম্যাচেও খেলেননি, কিন্তু বিশ্বকাপের পদক জিতেছেন
- 📌 **কোচ কার্লোস বিলার্দো** জেলাদাকে বিশ্বকাপ দলে রাখেন, কারণ দলের ঘাঁটি ছিল তার ক্লাব আমেরিকার অনুশীলনকেন্দ্রে
- 📌 **মেক্সিকো** তাকে নাগরিকত্ব দিতে প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে এক আন্তর্জাতিক যুব টুর্নামেন্ট খেলে ফেলেন
📰 বিস্তারিত
২২ জুন ১৯৮৬, মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। সেই ম্যাচের পর্দার আড়ালে ছিলেন হেক্টর জেলাদা। তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলরক্ষক, কিন্তু কখনোই আর্জেন্টিনার জাতীয় জার্সি গায়ে মাঠে নামেননি।
জেলাদা ১৯৭৯ সালে আর্জেন্টিনা ছেড়ে মেক্সিকো চলে যান এবং ক্লাব আমেরিকার হয়ে তারকা গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে তিনি পরপর তিন বছর মেক্সিকোর সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন। কিন্তু আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জন্য তিনি কখনোই খেলেননি।
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার কোচ কার্লোস বিলার্দো জেলাদাকে বিশ্বকাপ দলে রাখেন। কারণ, দলের ঘাঁটি ছিল ক্লাব আমেরিকার অনুশীলনকেন্দ্রে, যেখানে জেলাদা একজন জনপ্রিয় খেলোয়াড়। কোচ বিলার্দো জেলাদাকে বলেছিলেন, ‘আর কখনো বলো না যে উবালদো ফিলোল তোমার আদর্শ, এতে আমাকে বোকার মতো দেখায়।’
ম্যারাডোনার ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’-এর সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামেননি জেলাদা। কিন্তু তিনি পর্দার আড়ালে কাজ করেন। তার নিজের স্পোর্টসওয়্যার দোকান থেকে তিনি নীল জার্সি বানিয়ে দেন, যা পরে ফুটবল ইতিহাসে আলোচিত হয়।
"আর কখনো বলো না যে ফিলোল তোমার আদর্শ, এতে আমাকে বোকার মতো দেখায়"
মেক্সিকোও জেলাদাকে নিজেদের করে নিতে চেয়েছিল। ক্লাব আমেরিকার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পর তাকে নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। জেলাদা বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে গিয়ের্মো কানিয়েদোর আমন্ত্রণে আমি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট রাফায়েল দেল কাস্তিয়োর সঙ্গে খাবার খেয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে নাগরিকত্ব দিতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি আর্জেন্টিনার হয়ে এক আন্তর্জাতিক যুব টুর্নামেন্ট খেলে ফেলেছিলাম।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেক্সিকো সিটি (আজতেকা স্টেডিয়াম), মেক্সিকো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হেক্টর জেলাদা, কার্লোস বিলার্দো, ডিয়েগো ম্যারাডোনা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ (জুন), ৩ (তৃতীয় গোলরক্ষক), ২ (গোল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!