📌 বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারের সংগীতপ্রীতির অনন্য ইতিহাস উন্মোচিত হলো তাঁর আত্মজীবনী ও চলচ্চিত্র কর্মের মধ্য দিয়ে। গান গাওয়া থেকে শুরু করে সংগীত পরিচালনা পর্যন্ত তাঁর বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়
বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারের সংগীতপ্রীতির ইতিহাস তাঁর ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নবজন্ম’ চলচ্চিত্রে উত্তমকুমার নিজেই সাতটি বৈষ্ণব পদাবলি গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি আর কখনো চলচ্চিত্রের জন্য গান রেকর্ড করেননি, তবে দুটি চলচ্চিত্রে তিনি সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উত্তমকুমার তাঁর আত্মজীবনী ‘আমার আমি’তে উল্লেখ করেছেন যে সিনেমায় সুযোগ পাওয়ার আশায় তিনি গান শেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন
- 📌 ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নবজন্ম’ চলচ্চিত্রে উত্তমকুমার নিজেই সাতটি বৈষ্ণব পদাবলি গান এবং তা ব্যাপক সাড়া ফেলে
- 📌 উত্তমকুমার দুটি চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন: ‘কাল তুমি আলেয়া’ (১৯৬৬) এবং ‘সব্যসাচী’ (১৯৭৭)
- 📌 তাঁর সংগীতশিক্ষার শুরু হয়েছিল নিদানবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে, যিনি ছিলেন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতশিক্ষক
- 📌 উত্তমকুমার বিভিন্ন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দুস্থ শিল্পীদের সাহায্য করতেন
📰 বিস্তারিত
উত্তমকুমারের সংগীতপ্রীতির সূচনা হয়েছিল তাঁর শৈশব থেকেই। গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে নিয়মিত গানের আসর বসত, যেখানে তিনি অংশগ্রহণ করতেন। থিয়েটারে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষার পর নিদানবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীত শেখা শুরু করেন। নিজের আত্মজীবনী ‘আমার আমি’তে উত্তমকুমার লিখেছেন, ‘সিনেমায় আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষা তখন প্রবল আমার। শুনেছিলাম গান জানলেই নাকি সহজেই সিনেমায় সুযোগ পাওয়া যায়।’
১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নবজন্ম’ চলচ্চিত্রে উত্তমকুমার নিজেই সাতটি বৈষ্ণব পদাবলি গেয়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি আর চলচ্চিত্রের জন্য গান রেকর্ড করেননি, তবে তিনি সংগীত পরিচালনার দিকে মনোনিবেশ করেন। তাঁর প্রথম সংগীত পরিচালিত চলচ্চিত্র ছিল ‘কাল তুমি আলেয়া’ (১৯৬৬), যেখানে তিনটি গানের মধ্যে একটি গেয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং বাকি দুটি গেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করলেও উত্তমকুমার দ্রুত অন্য চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেননি। পরবর্তীতে তিনি ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সব্যসাচী’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন।
উত্তমকুমার তাঁর সংগীতজ্ঞানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের গানে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি প্রায়ই গানের রেকর্ডিংয়ে উপস্থিত থাকতেন, মতামত দিতেন এবং গানের রিহার্সালেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। এমনকি তিনি বিভিন্ন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দুস্থ শিল্পীদের সাহায্য করতেন। জনপ্রিয় গান ‘এই মোম জোছনায়’ উত্তমকুমারের জন্য নচিকেতা ঘোষ করেছিলেন, যা রবীন্দ্রসদনের এক অনুষ্ঠানে প্রথম গেয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়।
‘সিনেমায় আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষা তখন প্রবল আমার। শুনেছিলাম গান জানলেই নাকি সহজেই সিনেমায় সুযোগ পাওয়া যায়।...আমি তাই গান শেখবার জন্য মরিয়া হয়ে গেলাম।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উত্তমকুমার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (সংগীত পরিচালিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ (বছর ব্যবধান ‘কাল তুমি আলেয়া’ ও ‘সব্যসাচী’ চলচ্চিত্রের মধ্যে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!