📌 নেপালের হিমালয়ে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ফ্ল্যাশ ফ্লাড দক্ষিণ এশিয়ার নদী ব্যবস্থায় বিপর্যয় ডেকে আনছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা বাংলাদেশের পদ্মা নদীর নাব্যতা হ্রাস ও বন্যা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ হতে পারে
ঢাকা: নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া বিশাল হিমবাহ ধসের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতসংলগ্ন উচ্চাঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হিমবাহ ধসে পড়ে। এই ঘটনার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাত্মক ফ্ল্যাশ ফ্লাড ও ভূমিধসে তিমুরে, স্যাব্রুবেসি, রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের ল্যাংটাং লিরুং অঞ্চলে ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে, যার ফলে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর ধসে পড়ে
- 📌 ধসে পড়া হিমবাহের কারণে লেন্দে নদী, ভোতে কোশী ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়
- 📌 এই বিপর্যয়ে একাধিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু, সড়ক ও জনপদ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়
- 📌 বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের উজানে ঘটা এই ঘটনা বাংলাদেশের পদ্মা নদীর নাব্যতা হ্রাস ও বন্যা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ হতে পারে
📰 বিস্তারিত
নেপালের হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। গত ২৬ আগস্ট নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতসংলগ্ন উচ্চাঞ্চলে অবস্থিত হিমবাহ ধসে পড়ে। প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর ধসে পড়ে নদীপ্রবাহ রুদ্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সেই রুদ্ধ বাঁধ ভেঙে কাদা, পাথর ও বিপুল জলরাশি প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে নেমে আসে। ফলে তিমুরে, স্যাব্রুবেসি, রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ‘হিমালয়ের উজানে ঘটা এই বিপর্যয় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো নিম্নাঞ্চলের অববাহিকার জন্য বড় জলবায়ু সতর্কবার্তা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হিমবাহ গলন, পাথরধস, ভূমিধস, নদী অবরুদ্ধ হওয়া ও ফ্ল্যাশ ফ্লাড সবই একই ধারাবাহিক বিপর্যয়ের অংশ হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে বিশাল আকারের পাথর ও বরফ জমাট বেঁধে থাকে। সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সেই বরফ গলতে শুরু করে এবং পুরো ভাঙন ধরে। তখন এক ঝটকায় তা ছিটকে পড়ে।’ তিনি আরও জানান যে, এই ধরনের ফ্ল্যাশ ফ্লাডে মানুষকে সতর্ক করার সময় খুব কম থাকে। সাধারণ বন্যার মতো কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের পূর্বাভাস এখানে যথেষ্ট নয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের ল্যাংটাং লিরুং অঞ্চল, বাংলাদেশের পদ্মা নদী অববাহিকা
- 👥 বিশেষজ্ঞ: মোস্তফা কামাল পলাশ, ড. মো. জিল্লুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ আগস্ট, ৫ হাজার ২০০ মিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!