📌 মৌসুমী ও ওমর সানী ১৯৯৫ সাল থেকে বিবাহিত। দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে তাদের সম্পর্ক টিকে থাকার রহস্য জানিয়েছেন ওমর সানী। তিনি মৌসুমীর যত্নশীলতা, সন্তানদের প্রতি যত্ন এবং পারস্পরিক বিশ্বাসকে তাদের সম্পর্কের মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন
৩১ বছর আগে চুপিসারে বিয়ে করে নেওয়া মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্কের গোপনীয়তা আবারও উন্মোচন করেছেন ওমর সানী। ঢাকার চলচ্চিত্র জগতে জনপ্রিয় এই দম্পতির প্রেমের গল্পে বিশ্বাস, ত্যাগ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মৌসুমীর যত্নশীল স্বভাব এবং সন্তানদের প্রতি যত্ন তাদের সম্পর্কের মূল শক্তি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওমর সানী মৌসুমীর যত্নশীলতা এবং সন্তানদের প্রতি যত্নকে তাদের সম্পর্কের মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে তাদের সম্পর্ক টিকে থাকার রহস্য হিসেবে তিনি বিশ্বাস ও ত্যাগের কথা বলেছেন।
- 📌 মৌসুমী ও ওমর সানী ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক টিকে আছে।
- 📌 সানী মৌসুমীর বকাঝকা এবং পরামর্শের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি তার কাছে খুবই স্বস্তির একজন মানুষ।
- 📌 তাদের সম্পর্কের শুরুতে ১৯৯৩ সালে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথম জুটি বাঁধেন তারা, কিন্তু সিলেটে শুটিংয়ের সময় মনোমালিন্য হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
মৌসুমী ও ওমর সানীর প্রেমের গল্পের শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে। তবে তখনই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়নি। পরিচালক শেখ নজরুল ইসলামের প্রস্তাবে ওমর সানী মৌসুমীর মোহাম্মদপুরের বাসায় গেলে দুজনের প্রথম কথা হয়। কিন্তু অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে মৌসুমী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ১৯৯৩ সালে ‘দোলা’ ছবিতে তারা প্রথমবার জুটি বাঁধেন। সিলেটে ছবিটির শুটিংয়ের সময় দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব ও পরিবারের আন্তরিকতা ওমর সানীকে মুগ্ধ করে।
১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ চুপিসারে বিয়ে করে নেওয়া এই দম্পতির বিবাহোত্তর সংবর্ধনা ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের দেড় বছর পর এই অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। ৩১ বছর ধরে তাদের সম্পর্ক টিকে থাকার রহস্য জানিয়ে ওমর সানী বলেছেন, “মৌসুমীর যত্নশীল স্বভাব এবং জেদ আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে। পাশাপাশি দুজনের স্বভাবের পার্থক্যও আমাদের সম্পর্ককে আরো গভীর করেছে। মৌসুমী অনেক কথা নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখতে পারেন, কিন্তু আমি তা পারি না। তার ধৈর্যও আমার তুলনায় কিছুটা বেশি।”
সন্তানদের নিয়ে মৌসুমীর চিন্তা ও যত্নের কথাই ওমর সানীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, “ফারদীন ও ফাইজার আম্মু, তোমাকে ভালোবাসি। সন্তানদের পর যদি কিছু বাকি থাকে, তবেই আমার কথা আসে।” সংসারের ছোট ছোট মুহূর্তও তাদের সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রেখেছে। খাবার টেবিলে পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা করে মাংস তুলে রাখার বিষয়টি স্মরণ করে তিনি জানান, এমন ছোটখাটো ঘটনাতেই তাদের পারিবারিক জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ লুকিয়ে থাকে।
বিচ্ছেদের গুঞ্জনও একাধিকবার ছড়িয়েছে তাদের সম্পর্কে। ওমর সানী স্বীকার করেছেন, “মানুষ হিসেবে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই ভুল হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত লেখালেখি হলে সেটিই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” তিনি মৌসুমীর একটি মন্তব্য উল্লেখ করে বলেছেন, “অনেকের জীবিকা হয়তো এমন আলোচনা ও লেখালেখির ওপর নির্ভর করে। তবে এসবের বাইরে নিজের অনুভূতির জায়গায় স্পষ্ট ওমর সানী।”
"ফারদীন-ফাইজার আম্মু, তোমাকে ভালোবাসি। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও ত্যাগ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সিলেট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওমর সানী, মৌসুমী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ বছর (বিবাহোত্তর), ৪ মার্চ (বিয়ের তারিখ), ২ আগস্ট (বিবাহোত্তর সংবর্ধনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!