📌 শাহ আবদুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর শেষ দশ দিনের ঘটনাবলী তুলে ধরা হয়েছে। হাসপাতালে কাটানো শেষ দিনগুলোয় তাঁর জীবন কীভাবে বিষাদময় হয়ে উঠেছিল, শিষ্যদের সাথে কী ঘটনা ঘটেছিল — সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাউলসাধক শাহ আবদুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর শেষ দশ দিনের ঘটনাবলী আজ স্মরণীয় হয়ে উঠেছে। ১৭ বছর আগে চিরনিদ্রায় শুয়ে যাওয়া এই কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনের শেষ অধ্যায়টি ছিল বিষাদময়। সিলেটের হাসপাতালে কাটানো শেষ দিনগুলোয় তাঁর জীবন কীভাবে ধীরে ধীরে দিশাহারা হয়ে পড়েছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহ আবদুল করিম, পরবর্তীতে সিলেটের নূরজাহান হাসপাতালে ভর্তি হন
- 📌 হাসপাতালে কাটানো শেষ ১০ দিনে তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, কথা বলতে পারতেন না — শুধু ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন
- 📌 ১১ সেপ্টেম্বর সকালে অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে, ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ৯৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন
- 📌 শিষ্য বশিরউদ্দিন সরকারের লেখা গান শুনে হাসেন, কিন্তু ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’ গান শুনে চোখে পানি আসে — শেষে ইশারায় বলেন ‘তোমার ঠেখন নাই’
- 📌 মৃত্যুর আগে শাহ নূরজালালকে ডাকতে গিয়ে শিষ্য আবদুর রহমানকে ডাকেন এবং ইশারায় বলেন ‘যাও, মানুষে তোমারে মায়া করবনে’
📰 বিস্তারিত
শাহ আবদুল করিমের জীবনের শেষ দশ দিন ছিল বিষাদময়। ২০০৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অক্সিজেন দেওয়ার পর তাঁকে সিলেটের নূরজাহান জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার দিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও তাঁর স্মৃতিশক্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। শুধু ছেলে শাহ নূরজালালসহ কয়েকজন ছাড়া অন্যদের চিনতে পারতেন না। কথাও বলতে পারতেন না স্পষ্টভাবে।
শাহ আবদুল করিমের শিষ্য বশিরউদ্দিন সরকারের লেখা একটি গান শুনে তিনি হেসেছিলেন। গানটি ছিল ‘কী খেলা খেলতেছেন বাবা করিম শায়/ গাড়ি চলে না চলে না বলে চালাচ্ছেন মৌলায়’। কিন্তু তাঁর নিজের লেখা ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’ গান শুনে চোখে পানি আসে। উপস্থিত ব্যক্তিরা বশিরউদ্দিনকে দোষারোপ করলে শাহ আবদুল করিম ইশারায় তাঁদের থামিয়ে দেন। বশিরউদ্দিন পরে স্মরণ করেন, ওস্তাদ একেবারে নির্লিপ্ত হয়ে পড়েন এবং ইশারায় বলেছিলেন, ‘তোমার ঠেখন নাই’ — অর্থাৎ তুমি কোথাও আটকাবে না।
শাহ আবদুল করিমের প্রধান শিষ্য আবদুর রহমান জানিয়েছেন, শেষ দিনগুলোয় ওস্তাদ কথা বলতে চাইতেন, কিন্তু কণ্ঠ অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি ইশারায় বলতেন, ‘কই বেটাইন, তোমরা কই? মানুষ আনো, গফ করি। আর দরজাটা লাগাও’। শাহ আবদুল করিমের স্বভাব ছিল স্বল্পাহারী। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। শোল মাছ ও রসগোল্লা ছিল তাঁর প্রিয়, কিন্তু শেষ দিনগুলোয় সেসবের কথাও ইশারায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
১১ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। ঘন ঘন শ্বাস নিতে শুরু করেন শাহ আবদুল করিম। ছেলে শাহ নূরজালাল চিকিৎসক ডাকতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে শাহ আবদুল করিম ইশারায় আবদুর রহমানকে কাছে ডাকেন। শিষ্য তাঁকে জড়িয়ে ধরলে অস্পষ্ট স্বরে কিছু বলেন এবং ধীরে ধীরে হাত তুলে তাঁর মুখে বুলিয়ে দেন। আবদুর রহমানের ধারণা, ওস্তাদ তাঁকে বলেছিলেন, ‘যাও, মানুষে তোমারে মায়া করবনে’।
"তোমার ঠেখন নাই" — শাহ আবদুল করিমের শেষ ইশারা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট (নূরজাহান হাসপাতাল), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা (উজানধল গ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহ আবদুল করিম, শাকুর মজিদ, বশিরউদ্দিন সরকার, শাহ নূরজালাল, আবদুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ দিন (হাসপাতালে), ১৭ বছর (মৃত্যুর পর), ৯৩ বছর (বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!