📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার জাতীয় সংসদে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের উদ্বোধন করে বলেছেন, তিন মাসে অন্তত ৮০ শতাংশ ডেঙ্গু সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবেন। তিনি দেশের তরুণদের আহ্বান জানিয়ে দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব তুলে ধরেছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী তিন মাসে আমরা ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। হয়তো শতভাগ সমাধান সম্ভব না হলেও অন্তত ৮০ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব।’ তিনি দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের তরুণসমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। এবার রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব তরুণদের উপর ন্যস্ত।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যমাত্রা ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে
- 📌 ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
- 📌 বাংলাদেশের স্কাউটসের সংখ্যা ২৩ লাখ, বিএনসিসির সদস্য ২২ হাজার, প্রাথমিক শিক্ষার্থী ২৫ লাখেরও বেশি
- 📌 প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা সবাই একত্র হয়ে দেশ গড়তে পারি’
- 📌 ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আমাদের তরুণসমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। এবার রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব তরুণদের উপর ন্যস্ত। আসুন, এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারব।’
১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ঢাকাকেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসির সদস্যসংখ্যা ২২ হাজার। এ ছাড়া প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা ছাড়াও সারা দেশে হাইস্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। আর প্রাথমিক স্কুল ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় রয়েছে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী।’
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আজ অনলাইনে প্রায় সবগুলো জেলা এখানে কানেক্টেড আছে। গার্লস গাইড, বিএনসিসি স্কাউটস, ভলান্টিয়ারসহ আপনাদের সবার কাছে আমি একটি সাহায্য চাই। সেটি হলো, এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আমরা সবাই আজকে একত্র হয়েছি। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্র হয়েছি। সেটি হলো, দেশ গড়ার লক্ষ্য।’
‘কীভাবে ডেঙ্গু জ্বর হয় সেটা সবাই জানে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভাঙারি, কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে। প্লাস্টিক ও মাটির বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে পানি জমে এই ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা জন্মায়। সবাই চেষ্টা করলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।’ তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এই মাঠে আমরা যত মানুষ আজকে উপস্থিত আছি, প্রত্যেকে পানি খাই এবং প্রত্যেকে যদি একটা করে কিছু মাঠে ফেলে দিই, এখানে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এই ময়লাগুলা আস্তে আস্তে জমা হয়ে আবর্জনা হবে। সেখান থেকে রোগজীবাণু তৈরি হবে। আপনি বা আপনার প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যাবে।’
"আসুন, আমরা নিজেকে সুস্থ রাখি। নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না। আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা যদি আমরা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দ্রুত এই পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হব।"
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাস্তাঘাট দিয়ে বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে–সেখানে আবর্জনা ফেলে। সেটা দেখলে তাদের সচেতন করতে হবে। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে, তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। তাই কথা একটাই। কাজ, কাজ, আর কাজ। এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ শতাংশ (ডেঙ্গু সমাধান লক্ষ্যমাত্রা), ২৩ লাখ (স্কাউটস), ২২ হাজার (বিএনসিসি সদস্য), ১২ সেপ্টেম্বর-১২ ডিসেম্বর (অভিযান সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!