📌 ৬৫ টাকার বেতনের স্কুল শিক্ষক থেকে শুরু করে প্যারিসের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে সুপারমডেল হয়ে ওঠেন অঞ্জলি মেন্ডিস। তার গায়ের রং, উচ্চতা ও শরীরের গঠন ভারতেই তাকে প্রত্যাখ্যাত করলেও প্যারিসে সেগুলোই তাকে আলাদা করে দিল। তার জীবনের গল্পে ছিল প্রত্যাখ্যান, আর্থিক সংকট ও এক গভীর প্রেমের হারানোর বেদনা
৬৫ টাকার বেতনের স্কুল শিক্ষক থেকে শুরু করে প্যারিসের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে সুপারমডেল হয়ে ওঠেন অঞ্জলি মেন্ডিস। তার জীবনের এই অবিশ্বাস্য রূপান্তর শুরু হয়েছিল ভারতের গোয়ায় এক গরিব পরিবারে। তার গায়ের রং, উচ্চতা ও শরীরের গঠন ভারতেই তাকে প্রত্যাখ্যাত করলেও প্যারিসে সেগুলোই তাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ ফ্যাশন অঙ্গনে নিয়ে গেল। তার জীবনের গল্পে ছিল প্রত্যাখ্যান, আর্থিক সংকট, পরিবারের শোক ও এক গভীর প্রেমের হারানোর বেদনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৪৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ভারতের গোয়ায় জন্মগ্রহণ করেন অঞ্জলি মেন্ডিস (ফিলিস মেন্ডিস নামে)। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ।
- 📌 ৬৫ টাকার বেতনের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন কলেজ পড়ার সময় পরিবারের আর্থিক সংকট মেটাতে।
- 📌 ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫০ ফ্রাঁ হাতে নিয়ে প্যারিস যান এবং পিয়ের কারদাঁর হাউস মডেল হয়ে ওঠেন।
- 📌 তার গায়ের রং, উচ্চতা ও শরীরের গঠন ভারতেই তাকে প্রত্যাখ্যাত করলেও প্যারিসে সেগুলোই তাকে আলাদা করে দিল।
- 📌 মডেলিংয়ে আসার পথ ছিল কাকতালীয় — একদিন বাসে দেখা এক তরুণীর পরামর্শে ফ্যাশন শোতে অংশ নেন।
📰 বিস্তারিত
অঞ্জলি মেন্ডিসের জন্মনাম ছিল ফিলিস মেন্ডিস। তিনি ১৯৪৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ভারতের গোয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। বাবা কেজেটান মেন্ডিস সুইস ঘড়ির প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। মা পরিবারের বড় সংসার পরিচালনা করতেন। অর্থের দিক থেকে পরিবারটি সচ্ছল ছিল না, কিন্তু অঞ্জলির শৈশব ছিল প্রাণবন্ত। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন ভীষণ দুরন্ত — গাছে উঠতেন, ক্রিকেট খেলতেন, ছেলেদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ করতেন। নিজের ভাষায়, ছেলেদের সামনে নিজেকে জাহির করার জন্য নানা কাণ্ড করতেন।
অঞ্জলির শরীরের গড়ন অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল। তিনি ছিলেন অস্বাভাবিক লম্বা। স্কুলে উচ্চতা নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হতো। ক্লাসে সামনে বসলে পেছনের শিক্ষার্থীদের দেখতে সমস্যা হতো, তাই তাঁকে প্রায়ই পেছনের বেঞ্চে বসতে হতো। পড়াশোনাতে খুব ভালো ছিলেন না। বই পড়তেই বেশি ভালোবাসতেন। এনিড ব্লাইটন ও বারবারা কার্টল্যান্ডের বই ছিল অঞ্জলির পছন্দের।
কলেজে পড়ার সময় পরিবারের আর্থিক সংকট বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পড়াশোনার খরচের জন্য মায়ের কাছে অতিরিক্ত টাকা চাইলে মা তাঁকে কাজ করার পরামর্শ দেন। তখন মডেলিংয়ের কথা তাঁর মাথাতেই ছিল না। তিনি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেন। মাসে বেতন পেতেন মাত্র ৬৫ টাকা। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়, যখন অঞ্জলির বাবার চাকরিও চলে যায়। পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ায় তাঁর কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পরে সচিব হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজ্ঞাপন জগতের পরিচিত ব্যক্তি ববি সিস্তারের সচিব হিসেবে কাজ শুরু করেন।
মডেলিংয়ে আসা ছিল কাকতালীয়। একদিন বাসে যাওয়ার সময় এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। ওই তরুণী তাঁকে একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। কৌতূহল থেকে অঞ্জলি যোগাযোগ করেন ফ্যাশন শো সমন্বয়কারী জিনি নওরোজির সঙ্গে। জিনি প্রথমেই অঞ্জলির চোখের চশমার দিকে নজর দেন। মডেলিং করতে হলে চশমা খুলতে হবে। অঞ্জলি কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার শুরু করেন। এরপর একটি ফ্যাশন শোতে প্রথমবারের মতো র্যাম্পে হাঁটেন। কিন্তু র্যাম্পে অঞ্জলির উপস্থিতি নিয়ে সবাই খুশি ছিলেন না। তাঁর গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য করা হতো।
১৯৭১ সালের জুন মাসে অঞ্জলি মাত্র ১৫০ ফ্রাঁ হাতে নিয়ে প্যারিস যান। পিয়ের কারদাঁর হাউস মডেল হয়ে ওঠেন তিনি। তার গায়ের রং, উচ্চতা ও শরীরের গঠন ভারতেই তাকে প্রত্যাখ্যাত করলেও প্যারিসে সেগুলোই তাকে আলাদা করে দিল।
"মডেল হওয়ার জন্য তিনি মোটেও উপযুক্ত নন। কারণ, তাঁর গায়ের রং খুব কালো, উচ্চতা খুব বেশি, শরীরও খুব রোগা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত (গোয়া), প্যারিস (ফ্রান্স)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অঞ্জলি মেন্ডিস (ফিলিস মেন্ডিস), পিয়ের কারদাঁ, কেজেটান মেন্ডিস, ববি সিস্তার, জিনি নওরোজি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ টাকা (বেতন), ২৯ জানুয়ারি (জন্ম তারিখ), ১৫০ ফ্রাঁ (প্যারিস যাওয়ার সময় অর্থ), ১৯৭১ (প্যারিস যাওয়ার বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!