📌 যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেত্রী ক্রিস্টিন মিলিওটি তাঁর ৪১তম জন্মদিনে অভিনয়জীবনের সাফল্যের গল্প শেয়ার করেছেন। অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া থেকে শুরু করে এমি পুরস্কার জয় পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ পথচলা ছিল কঠিন ও অনুপ্রেরণাদায়ক
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী ক্রিস্টিন মিলিওটি তাঁর ৪১তম জন্মদিন পালন করেছেন। অভিনয়ের প্রতি তাঁর অনুরাগ শৈশব থেকেই ছিল। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হন মিলিওটি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অভিনেত্রী ক্রিস্টিন মিলিওটির অভিনয়জীবনের শুরু ছিল প্রত্যাখ্যান ও হতাশায় ভরা
- 📌 নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর পড়াশোনার পর অভিনয়ের দিকে মনোনিবেশ করেন তিনি
- 📌 অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখতে ছোটখাটো উপহার কিনতেন মিলিওটি
- 📌 ২০০৬ সালে ‘দ্য সোপ্রানোস’-এ প্রথম বড় টেলিভিশন কাজের সুযোগ পান তিনি
- 📌 ২০১১ সালে ‘ওয়ান্স’ মিউজিক্যালে অভিনয়ের জন্য টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পান
- 📌 ২০১৩ সালে ‘হাউ আই মেট ইউর মাদার’ সিরিজে ট্রেসি ম্যাককনেল চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন
- 📌 ২০২৪ সালে ‘দ্য পেঙ্গুইন’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড জয় করেন মিলিওটি
📰 বিস্তারিত
ক্রিস্টিন মিলিওটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির চেরি হিলে ১৯৮৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। অভিনয়ের প্রতি তাঁর অনুরাগ শৈশব থেকেই ছিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ছোটবেলায় পশুচিকিৎসক বা ড্রাগন হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তবে সিনেমা ও সংগীতের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছা তাঁকে সবসময় টানত। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও এক বছর পরই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে অভিনয়ের দিকে মনোনিবেশ করেন মিলিওটি।
অভিনয় শেখার জন্য নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা তাঁর কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। তিনি বলেন, মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ তাঁকে বেশি টানছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। পরে একটি নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে একজন এজেন্টের নজরে পড়েন তিনি। সেই এজেন্ট তাঁকে অডিশনে পাঠান।
অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও মিলিওটি নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখার চেষ্টা করতেন। তিনি বলেন, প্রত্যাখ্যানের কষ্ট সামলাতে নিজেকেই ছোটখাটো উপহার দেওয়া যেতে পারে। একবার অডিশনে অনেক পরিশ্রম করেও কাজ না পেয়ে গাড়িতে পুরো রাস্তা কেঁদেছিলেন তিনি। পরে রাস্তার একটি দোকান থেকে নিজের জন্য একটি ছোট কানের দুল কিনেছিলেন।
২০০৬ সালে ‘দ্য সোপ্রানোস’-এ ছোট একটি চরিত্র পান মিলিওটি। এটি ছিল তাঁর প্রথম বড় পেশাদার টেলিভিশন কাজ। তবে সেই সাফল্যের পরও নিয়মিত কাজ পাওয়া সহজ ছিল না। ‘দ্য সোপ্রানোস’-এর পর প্রায় এক বছর কোনো অভিনয়ের কাজ পাননি তিনি। কেউই তাঁকে ডাকেনি। তখন তিনি নানা ধরনের ছোটখাটো কাজ করেছেন।
২০১১ সালে ‘ওয়ান্স’ মিউজিক্যালে অভিনয়ের জন্য তাঁকে পিয়ানো বাজাতে হতো। কিন্তু সমস্যা ছিল, তিনি তখন সংগীতের নোটই পড়তে পারতেন না। শেষ অডিশনের আগে মাত্র ১০ দিনে তাঁকে পিয়ানো শেখানো হয়। তিনি প্রতিদিন সাত থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত অনুশীলন করেন। শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি পান। ‘ওয়ান্স’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পান এবং অ্যালবামটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জেতে।
২০১৩ সালে ‘হাউ আই মেট ইউর মাদার’ সিরিজে ট্রেসি ম্যাককনেল বা ‘মাদার’ চরিত্রে অভিনয় করে হলিউডের বাইরের দর্শকের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি পান মিলিওটি। দীর্ঘদিন ধরে সিরিজটিতে যে রহস্যময় ‘মা’ চরিত্রটির কথা বলা হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই চরিত্রেই দেখা যায় তাঁকে।
এরপর ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’, ‘ফার্গো’ এবং ‘ব্ল্যাক মিরর’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় কাজের সুযোগ পান মিলিওটি। ২০২০ সালের ‘পাম স্প্রিংস’ সিনেমায় অ্যান্ডি সামবার্গের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটি সমালোচকদের প্রশংসা পায় এবং তাঁকে আরও বড় পরিসরের অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২৪ সালে। সে বছর মুক্তি পাওয়া ‘দ্য পেঙ্গুইন’-এর সোফিয়া ফ্যালকোন চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনে। চরিত্রটি একই সঙ্গে নির্মম, যন্ত্রণাদগ্ধ ও জটিল। মিলিওটির অভিনয়ে চরিত্রটি বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পায়। মিলিওটি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ খুঁজছিলেন, যেখানে নিজের অভিনয়ের বিভিন্ন দিক দেখাতে পারবেন। ‘দ্য পেঙ্গুইন’ সেই সুযোগ এনে দেয়।
"অভিনয় পেশায় ‘রিজেকশন’ বা প্রত্যাখ্যান অনেক কষ্টের। এটা কঠিন যাত্রা। কখনো কখনো প্রত্যাখ্যানের কষ্ট সামলাতে নিজেকেই ছোটখাটো উপহার দেওয়া যেতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্রিস্টিন মিলিওটি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪১ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!