📌 বলিউডের প্রসিদ্ধ জুটি সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের বিচ্ছেদের পিছনে ছিল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ। ঐশ্বরিয়া নিজে দাবি করেছেন, সালমানের দুর্ব্যবহার ও সন্দেহের কারণে তাদের প্রেমের গল্প তিক্ত বিচ্ছেদে পরিণত হয়। ২০০২ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সালমান কখনো কখনো তাঁর সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার করতেন এবং সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন
বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত প্রেমের জুটি সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের বিচ্ছেদের পিছনে ছিল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ছবির সেটে শুরু হওয়া এই প্রেমের গল্প শেষ পর্যন্ত তিক্ত বিচ্ছেদে পরিণত হয়। ১ নভেম্বর ঐশ্বরিয়ার জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক এই ঘটনার বিভিন্ন দিক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শারীরিক দুর্ব্যবহার: ঐশ্বরিয়া দাবি করেছেন, সালমান কখনো কখনো তাঁর সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার করতেন, কিন্তু বাইরে থেকে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হতো।
- 📌 সহ-অভিনেতাদের সন্দেহ: সালমান ঐশ্বরিয়ার সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন, যা তাদের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছিল।
- 📌 পরিবারের আপত্তি: সালমানের আগের সম্পর্কের ইতিহাস ও অন্য অভিনেত্রীদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার কারণে ঐশ্বরিয়ার পরিবার তাঁকে নিয়ে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেনি।
- 📌 মুম্বাইয়ের বাসায় ঘটনা: ২০০১ সালের নভেম্বরে সালমান ঐশ্বরিয়ার মুম্বাইয়ের বাসায় গিয়ে দরজায় দীর্ঘ সময় ধাক্কাধাক্কি করেছিলেন, যা তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরো বাড়িয়ে দেয়।
📰 বিস্তারিত
সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ছবির শুটিংয়ের সময়। ১৯৯৯ সালে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সালমান তখন বলিউডের প্রতিষ্ঠিত তারকা ছিলেন, আর ঐশ্বরিয়া ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার পর ধীরে ধীরে হিন্দি সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন। তাঁদের বয়স, তারকাখ্যাতি এবং ক্যারিয়ারের অবস্থান সব দিক থেকেই আলোচিত জুটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।
প্রেমের শুরুতে বিয়ের স্বপ্নও ছিল তাদের। তবে ঐশ্বরিয়ার পরিবারের সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। সালমানের আগের প্রেমের সম্পর্ক, বিশেষ করে সোমি আলী ও সংগীতা বিজলানির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতিহাস নিয়ে ঐশ্বরিয়ার পরিবারের আপত্তি ছিল। সাংবাদিক হানিফ জাভেরি ২০২৫ সালের ‘মেরি সহেলি’ পডকাস্টে বলেছিলেন, সালমান ও ঐশ্বরিয়া দুজনই সম্পর্কটিকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সালমানের নাম অন্য অভিনেত্রীদের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় ঐশ্বরিয়ার পরিবার তাঁকে নিয়ে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেনি।
অবশ্য, ঐশ্বরিয়া নিজে তাঁদের বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে পরিবারের আপত্তি উল্লেখ করেননি। বরং তিনি বলেছিলেন, সম্পর্কের ভেতরে সন্দেহ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগই ছিল মূল কারণ। ২০০২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেছিলেন, সালমান কখনো কখনো তাঁর সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার করতেন। তিনি বলেছিলেন, “বাইরে থেকে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও ব্যক্তিগত জীবনে আমি কঠিন সময় পার করছিলাম।”
সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার সম্পর্ক নিয়ে সালমানের সন্দেহও ছিল একটি বড় কারণ। ঐশ্বরিয়া বলেছিলেন, সালমান শাহরুখ খান থেকে শুরু করে অভিষেক বচ্চন সহ বিভিন্ন সহ-অভিনেতার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ার কথা জানতে পারতেন এবং তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন। এই সন্দেহ ও প্রতিক্রিয়া তাদের সম্পর্ককে আরো জটিল করে তুলেছিল।
"তাঁর সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সালমানের সন্দেহ ছিল। তিনি ফোন করে নানা ধরনের কথা বলতেন। আমি কখনোই তাঁর এই আচরণকে সহ্য করতে পারিনি।"
২০০১ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ঐশ্বরিয়ার বাসায় সালমান গিয়ে দরজায় দীর্ঘ সময় ধাক্কাধাক্কি করেছিলেন। এই ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল এবং তাদের সম্পর্কের অবনতির আরেকটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালমান খান, ঐশ্বরিয়া রাই, সোমি আলী, সংগীতা বিজলানি, শাহরুখ খান, অভিষেক বচ্চন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ নভেম্বর (জন্মদিন), ২৭ সেপ্টেম্বর (সাক্ষাৎকার তারিখ), ২০০১ (ঘটনার বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!