📌 হলিউডের চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সাফল্য পেলেও বাংলাদেশে বাংলা সিনেমার দর্শক ক্রমেই কমছে। ঈদের পরও দেশি চলচ্চিত্রগুলো দর্শক টানতে ব্যর্থ হচ্ছে, যেখানে হলিউডের সিনেমাগুলো আয় করছে বিলিয়ন ডলার
ঈদুল আজহার কয়েক সপ্তাহ পরের ঘটনা। ঈদের সময় মুক্তি পাওয়া একটি বাংলা চলচ্চিত্রের তৃতীয় সপ্তাহ চলছিল। কর্মদিবসের দুপুরবেলা, ঢাকার একটি মাল্টিপ্লেক্সে দর্শকের ভিড় ছিল মোটামুটি। তবে চলচ্চিত্র শুরু হওয়ার পর দেখা গেল, হলের ভেতরে দর্শকের সংখ্যা মাত্র পাঁচজন! প্রশ্ন জাগে, দর্শকেরা কোথায় হারিয়ে গেলেন? শো শেষে কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বেশিরভাগ দর্শকই এসেছিলেন বিদেশি চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ দেখতে। অথচ সেই চলচ্চিত্রটির মুক্তির সময় তখন নবম সপ্তাহ পার করছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঈদের পরও বাংলা চলচ্চিত্রগুলো দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে বিদেশি চলচ্চিত্রগুলো আয় করছে বিলিয়ন ডলার
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আয় হয়েছে ৬২০ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি
- 📌 ‘মাইকেল’, ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’, ‘অবসেশন’, ‘ব্যাকরুমস’, ‘দ্য অডিসি’, ‘টয় স্টোরি ৫’, ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে ব্যাপক আয় করেছে
- 📌 ২০২৬ সালের প্রথম ৩০ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে বিক্রি হয়েছে ৪৭ কোটি ৯ লাখ টিকিট, যা ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ কম
- 📌 বাংলাদেশেও বিদেশি চলচ্চিত্রগুলো ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে, যেখানে দেশি চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ব্যতীত অন্য কোনো বাংলা চলচ্চিত্র উল্লেখযোগ্য আয় করতে পারেনি
📰 বিস্তারিত
চলতি বছরের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মহামারির পর এটিই হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সফল বক্স অফিস বছর। বছরের প্রথম সাত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহগুলো আয় করেছে প্রায় ৬২০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। যদিও ২০১৯ সালের একই সময়ের আয় ছিল ৭০০ কোটি ডলারের বেশি।
এ বছর একাধিক চলচ্চিত্র বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বা তার বেশি আয় করেছে। মার্চে মুক্তি পাওয়া ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ৬৮৪ মিলিয়ন ডলার। এপ্রিলে ‘মাইকেল’ এক বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করে। মে মাসে মাত্র এক মিলিয়ন ডলারের হরর চলচ্চিত্র ‘অবসেশন’ আয় করে ৪৭৫ মিলিয়ন ডলার। এরপর ‘ব্যাকরুমস’ ও ‘দ্য অডিসি’ প্রমাণ করেছে, শুধু পুরোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই নয়, নতুন গল্পও দর্শককে টানতে পারে। একই সঙ্গে ‘টয় স্টোরি ৫’ ও ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।
আগস্টের শুরুতেই ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়ে তোলে। এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রটি আয় করেছে ১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। হলিউডের এক শীর্ষ প্রেক্ষাগৃহ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা সবাই অনেকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছি।’
"চলতি বছরের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির তালিকায় বৈচিত্র্য থাকায় নানা ধরনের দর্শককে হলে টানা সম্ভব হয়েছে। অ্যাকশন, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, পারিবারিক বিনোদন, মৌলিক গল্প—সব মিলিয়ে বছরটি ভারসাম্যপূর্ণ।"
তবে বছরের বাকি সময়টি সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগস্ট ও শরতে মুক্তির তালিকা তুলনামূলক দুর্বল থাকবে। বছরের শেষ দিকে পরিস্থিতি আবার বদলে দিতে পারে ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ও ‘জুমানজি: ওপেন ওয়ার্ল্ড’।
বাংলাদেশেও বিদেশি চলচ্চিত্রগুলোর ব্যাপক সাফল্য দেখা যাচ্ছে। দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকেরা বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিদেশি চলচ্চিত্রের প্রতি। দেশি চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ব্যতীত অন্য কোনো চলচ্চিত্র উল্লেখযোগ্য আয় করতে পারেনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দর্শকের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২০ কোটি ডলার, ৪৭ কোটি ৯ লাখ টিকিট, ৬৮৪ মিলিয়ন ডলার, ৪৭৫ মিলিয়ন ডলার, ১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!