📌 উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও ছবি বিকৃতকরণের অভিযোগে বিক্ষোভ হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তের বাবা ডিন হওয়ায় পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে দাবি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ন্যায়বিচার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও ছবি বিকৃতকরণের অভিযোগে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ডিন হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়া এবং পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখা ও পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়; পরে বিক্ষোভে বেরিয়ে আসে তারা
- 📌 অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ৪ বছর ধরে মেয়েদের বিরক্ত করে আসছিলেন; বহুবার খারাপ স্পর্শ ও অশ্লীল মন্তব্য করেছেন
- 📌 ৭ অক্টোবর অভিযুক্তের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টররা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন; পরদিন ৮ অক্টোবর ১০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়
- 📌 ২৫ দিন পূজার ছুটি সহ শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়; তদন্তের নামে তাদের জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়
- 📌 অভিযুক্তের মা ও পরিবার ভুক্তভোগী ছাত্রীদের পরিবারকে বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এআই ব্যবহার করে ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্তের বাবা ডিন হওয়ায় বিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। তারা দাবি করে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘ওই ছেলে আমাকে চার বছর ধরে বিরক্ত করছে। একাধিকবার খারাপ স্পর্শ করেছেন এবং বন্ধুদের কাছে আমার সংবেদনশীল অঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বহুবার শিক্ষকদের বলতে চেয়েছি, কিন্তু সাহস পাইনি। এ বিষয়ে আমাকে প্রতিদিন অনেকে বিব্রত করছে।’ অন্য এক ভুক্তভোগী বলেছেন, ‘অভিযুক্ত আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে কথা বলে এবং ধর্ষণের হুমকিও দিয়েছে। আগেও শিক্ষকদের এ ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ৭ অক্টোবর অভিযুক্তের বাবা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টর (এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী ও এনামুল হক সজীব) বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরদিন ৮ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকরা ১০ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। তাদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয় এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত একটি মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের ২৫ দিন পূজার ছুটি সহ স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের পাঁচ দফা দাবি হল: প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগীদের হয়রানি বন্ধ করা, বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পুনর্বহাল করা এবং ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা। শিক্ষার্থীরা ‘হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই’ এবং ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের বাবা কি রিকশাওয়ালা?’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়া হয়।
"ওই ছেলে আমাকে চার বছর ধরে বিরক্ত করছে। একাধিকবার খারাপ স্পর্শ করেছেন। বহুবার শিক্ষকদের বলতে চেয়েছি, কিন্তু সাহস পাইনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অভিযুক্ত শিক্ষার্থী (ডিনের ছেলে), ভুক্তভোগী ছাত্রীরা, শিক্ষার্থী প্রতিবাদকারীরা, অধ্যক্ষ, ডিন (অনুষদ), সহকারী প্রক্টর (এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী ও এনামুল হক সজীব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ শিক্ষার্থী (শাস্তি), ৬০-৭০ জন (প্রতিবাদকারী), ৭ অক্টোবর, ৮ অক্টোবর, ২৫ দিন (বঞ্চিত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!