📌 তিস্তার দুর্গম হরিণচওড়া চরে স্থায়ী অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষার আলো পৌঁছাচ্ছে না। রংপুর বন্ধুসভা ও স্থানীয় শিক্ষকেরা মিলে চালু করেছেন ‘আলোর পাঠশালা’, যেখানে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তারা
রংপুরের হারাগাছ পৌরসভা থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে তিস্তা নদীবেষ্টিত একটি দুর্গম চরে স্থায়ী অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষার আলো পৌঁছাচ্ছে না। চরের প্রায় ৪০০ পরিবারের শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন রংপুর বন্ধুসভা ও স্থানীয় শিক্ষকেরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তিস্তার দুর্গম হরিণচওড়া চরে স্থায়ী অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
- 📌 চরের প্রায় ৪০০ পরিবারের শিশুদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না।
- 📌 গত বছরের ২৪ অক্টোবর চালু হওয়া ‘আলোর পাঠশালা’য় বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করছে।
- 📌 স্থানীয় শিক্ষকেরা হলেন মোরশেদুল ইসলাম, আমজাদুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার, আজম মিয়া ও ফাতেমা খাতুন।
- 📌 ক্লাস নেওয়া হয় গাছতলায় অথবা সাময়িক অফিসঘরে, যার স্থায়ী সমাধান এখনো মেলেনি।
📰 বিস্তারিত
তিস্তা নদীর মাঝখানে অবস্থিত হরিণচওড়া চর ভৌগোলিকভাবে লালমনিরহাট জেলায় হলেও নদীবেষ্টিত হওয়ায় লালমনিরহাটের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। চরের মানুষেরা জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটার জন্য নির্ভর করেন রংপুরের হারাগাছ পৌরসভা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওপর। স্থায়ী রাস্তাঘাট না থাকায় চরে পৌঁছাতে হয় নৌকায় করে নদী পার হয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার বালুময় পথ হেঁটে। প্রতিবছর নদীভাঙন ও বন্যার কারণে পথের দিশা পরিবর্তন হয়।
চরের প্রায় ৪০০ পরিবারের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ছকিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বন্ধুরা চরের শিশুদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম আলোর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচিকে কাজে লাগিয়ে তারা চালু করেন সাপ্তাহিক স্কুল ‘আলোর পাঠশালা’।
গত বছরের ২৪ অক্টোবর চালু হওয়া এই স্কুলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের লিখতে ও পড়তে সাহায্য করা। শুরুতে সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস হতো, কিন্তু অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের চাপে তা বাড়িয়ে সপ্তাহে ছয় দিন করা হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ক্লাস চলে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর বয়স ৬ থেকে ৯ বছর।
স্থায়ী অবকাঠামোর অভাবে ক্লাস নেওয়া হয় গাছতলায়। শীত ও বর্ষায় এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এবারের বর্ষায় স্থানীয়রা সরকারি কলোনির একটি অফিসঘর সাময়িকভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয় বলে জানান স্থানীয়রা।
"যে ছাওয়ারা ক্লাস নেয় ওরাও তো কলেজ যায়। নানান কাজ করে। ওরা না থাকলে ক্লাস কায় নেবে।" — স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ছকিম উদ্দিন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তিস্তার দুর্গম হরিণচওড়া চর, লালমনিরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ ছকিম উদ্দিন (স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা), মোরশেদুল ইসলাম, আমজাদুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার, আজম মিয়া, ফাতেমা খাতুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০ (পরিবার), ৯০ (শতাংশ), ২৪ (অক্টোবর), ৪৬ (শিশু), ১৭ (কিলোমিটার), ৯-১১ (টা), ৬ (দিন), ৫০ (শিক্ষার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!