📌 এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, প্রায় ৫৩ শতাংশ কিশোর নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, স্ক্রিন সময় কমিয়ে সপ্তাহে মাত্র ১০ ঘণ্টা কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের।
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নতুন কলেজ ও নতুন স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্মার্টফোনের আসক্তি। ঘুমানোর আগে মোবাইল স্ক্রল করা থেকে শুরু করে সকালে ঘুম ভাঙলেই প্রথম কাজ ফোন হাতে নেওয়া হয়ে উঠেছে অনেক কিশোরের অভ্যাসে। তবে এই অভ্যাস যে কেবল সময় নষ্ট করছে তা নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে প্রায় ৫৩ শতাংশ কিশোর নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যবহার করে বলে উঠে এসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়
- 📌 স্মার্টফোন আসক্তির কারণে কিশোরদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অনিদ্রার সমস্যাও দেখা দিচ্ছে
- 📌 গবেষকেরা পরামর্শ দিয়েছেন, সপ্তাহে মাত্র ১০ ঘণ্টা কাজের মাধ্যমে এই সময়কে দরকারি অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করার
- 📌 বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে এসএসসির পর একমাত্র লক্ষ্য থাকে নামীদামি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে কিশোরদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০২৫ সালে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁদের প্রকাশিত ‘বাংলা ডিজিটাল অ্যাডিকশন স্কেল’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় ৫৩ শতাংশ কিশোর নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যবহার করে। বয়স ও শ্রেণি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই আসক্তির মাত্রাও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে কিশোরদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অনিদ্রার মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। স্মার্টফোনের নীল আলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।
গবেষকেরা বলছেন, স্ক্রিনের পেছনে হারিয়ে যাওয়া সময়কে কাজে লাগিয়ে কিশোররা নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। এসএসসির পর অনেকেই পরিবারের ব্যবসায় সহায়তা করতে পারে, ছোটদের পড়াতে পারে অথবা স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত হতে পারে। তবে এই কাজের সময় যেন পড়াশোনার ক্ষতি না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বিদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। ফোর্বস সাময়িকীর ২০২৬ সালের ২৬ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরেরা বাগান করা, পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়া অথবা স্থানীয় ব্যবসার ডিজিটাল প্রচারে সহায়তা করছে। এসব কাজের মূল উদ্দেশ্য বড় অঙ্কের টাকা আয় করা নয়, বরং দায়িত্ববোধ, যোগাযোগ দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করা।
"কাজ মানে কেবল টাকা নয়, কাজ মানে অমূল্য অভিজ্ঞতা। ছোট কাজে বড় শিক্ষা। দুই বন্ধু মিলে টি-শার্ট বিক্রির একটি পেজ খুললে ক্রেতার সঙ্গে কথা বলা, খরচের হিসাব রাখা, দাম ঠিক করা— এসব দক্ষতা বাজারের দামি বই পড়ে শেখা অসম্ভব। ব্যবসার প্রথম লাভ তাই টাকা নয়, প্রথম লাভ হলো নিজের দক্ষতার ওপর আস্থা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!