📌 সিরাজগঞ্জের সোনাখাড়া গ্রামের সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান সরকারের শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি উদযাপিত হয় বর্ণিল ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। তরুণরা নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে রাজকীয় শোভাযাত্রা করে বাড়ি পৌঁছে দেন। অনুষ্ঠানে ৫০০-এরও বেশি মানুষ অংশ নেন
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সোনাখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান সরকারের শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি উদযাপিত হয় একটি বর্ণিল ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এই বিদায়লগ্নে শিক্ষককে সম্মান জানানোর জন্য তরুণরা নিজস্ব উদ্যোগে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন, যা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং গ্রামের একটি সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাফিজুর রহমান সরকার ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অবসর গ্রহণ করেন, কিন্তু বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে — ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — তরুণদের উদ্যোগে।
- 📌 শিক্ষককে বিদায় জানানোর জন্য তরুণরা নিজস্ব চাঁদা তুলে এবং গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে পরামর্শ করে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।
- 📌 বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ জন মানুষ অংশ নেন এবং শিক্ষককে ফুল ও রংবেরঙের কাপড়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে রাজকীয় শোভাযাত্রা করে বাড়ি পৌঁছে দেন।
- 📌 অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুলতান মাহমুদ (সাবেক প্রধান শিক্ষক), বক্তব্য দেন আব্দুল জাব্বার (সোনাখাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান), আফরুনা খানম (রুপাখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক), স্বপন কুমার সরকার (সোনাখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) এবং আব্দুল হালিম সরকার।
- 📌 শিক্ষক হাফিজুর রহমান সরকার বলেন, ‘একজন শিক্ষকের জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। আমার সব শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
📰 বিস্তারিত
সোনাখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান সরকার এই অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি পরম মমতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বহু শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলেছেন এবং তাদের সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষক হাফিজুর রহমান সরকারের শেষ কর্মদিবস ছিল ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, তবে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের কর্মের তাগিদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করায় কর্মদিবসে উপস্থিত হওয়া কঠিন ছিল। তাই শিক্ষককে বিদায় জানানোর ঐতিহাসিক মুহূর্তে সবাই উপস্থিত থাকতে পারেন, তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়।
বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার রাজকীয় কৌশল। সাধারণ কোনো যানবাহনে নয়, ফুল ও রংবেরঙের কাপড়ে সুন্দর করে সাজানো একটি ঘোড়ার গাড়িতে শিক্ষককে বসানো হয়। বাদ্যযন্ত্রের সুরে সুর মিলিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রাসহকারে সোনাখাড়া গ্রাম ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী রুপাখাড়া গ্রামে শিক্ষকের নিজ বাসভবনে তাঁকে পৌঁছে দেওয়া হয়। শোভাযাত্রার খবর পেয়ে রাস্তার দুই ধারে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শিক্ষককে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা ও সম্মান জানান।
শিক্ষকতা জীবন থেকে বিদায় নিলেও এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসায় গভীর আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক। তিনি তরুণদের এই ঐক্যবদ্ধ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
"একজন শিক্ষকের জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। আমার সব শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের সোনাখাড়া গ্রাম ও রুপাখাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাফিজুর রহমান সরকার (সহকারী শিক্ষক), সুলতান মাহমুদ (সাবেক প্রধান শিক্ষক), আব্দুল জাব্বার (প্যানেল চেয়ারম্যান), আফরুনা খানম (প্রধান শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (অবসর দিবস), ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বিদায় অনুষ্ঠান), ৫০০ জন (অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!