📌 প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৫-৭০% শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষকদের দক্ষতার অভাব, পারিবারিক সহায়তার অভাবে এবং শোনার সুযোগের ঘাটতির কারণে এই সমস্যা জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পদক্ষেপের বাস্তবতা ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের বাস্তবতা হলো, পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পরও অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষায় সাবলীলতা অর্জন করতে পারছে না। বিশ্বব্যাংকের ‘লার্নিং পভার্টি’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পর্যায়ে পৌঁছানো শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই সাধারণ ইংরেজি পাঠে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম। বাকি ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই বয়স বা শ্রেণি-উপযোগী সহজ ইংরেজি বাক্য ঠিকমতো পড়তে বা অর্থ বুঝতে পারেনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬৫-৭০% শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষায় পিছিয়ে**: বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পর্যায়ে মাত্র ৩০-৩৫% শিক্ষার্থীই ইংরেজি পাঠে সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
- 📌 **শিক্ষকদের দক্ষতার অভাব**: অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দক্ষ ইংরেজি শিক্ষকের অভাব রয়েছে। জাতীয়কৃত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেরই ইংরেজি দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।
- 📌 **পারিবারিক সহায়তার অভাবে শিক্ষার্থীরা একাকী**: গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০-২৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র দু-একজন শিক্ষার্থীর পরিবারে অভিভাবক চাকরিজীবী। বাকি শিক্ষার্থীরা বাড়িতে ইংরেজি চর্চার কোনো সহায়তা পায় না।
- 📌 **৪০ মিনিটের ইংরেজি পিরিয়ডে শোনার সুযোগের ঘাটতি**: শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র স্কুলেই ইংরেজি শেখার সুযোগ পায়, যেখানে একটি ইংরেজি পিরিয়ডের স্থায়িত্ব মাত্র ৪০ মিনিট।
- 📌 **মাতৃভাষার সংমিশ্রণহীন পাঠ্যবই**: প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি পাঠ্যবইতে মাতৃভাষার বৈজ্ঞানিক সংমিশ্রণ (‘ট্রান্সল্যাঙ্গুয়েজিং’) ধারণার অভাব রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শিক্ষার মূল চালিকা শক্তি হলো শিক্ষক। তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়েই দক্ষ ইংরেজি শিক্ষকের অভাব রয়েছে। জাতীয়করণের মাধ্যমে যুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এসএসসি বা দাখিল সমমান। এদের মধ্যে অনেকেরই ইংরেজি দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষকদের নিজেদের ফ্লুয়েন্টলি ইংরেজি বলার অভ্যাসও কম। ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা ইংরেজি শিক্ষা প্রদানের সময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। শিক্ষকদের এই ঘাটতি সরাসরি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক পটভূমি অত্যন্ত দুর্বল। ২০০ থেকে ২৫০ শিক্ষার্থীর একটি বিদ্যালয়ে মাত্র দু-একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক চাকরিজীবী। বাকি শিক্ষার্থীদের পরিবারে মা-বাবা দুজনেই জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকতে হয়। এসব শিক্ষার্থীর পরিবারে এমন কোনো সহায়ক নেই যিনি বাড়িতে ইংরেজি শিক্ষায় সাহায্য করতে পারেন। ফলে শিক্ষার্থীরা শতভাগ শ্রেণিকক্ষনির্ভর হয়ে পড়ে।
ভাষাবিদ স্টিফেন ক্র্যাশনের ‘কমপ্রিহেন্সিবল ইনপুট’ তত্ত্ব অনুযায়ী, ভাষা শেখার জন্য পর্যাপ্ত শোনার সুযোগ প্রয়োজন। অথচ আমাদের শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র স্কুলেই ইংরেজি শেখার সুযোগ পায়, যেখানে একটি ইংরেজি পিরিয়ডের স্থায়িত্ব মাত্র ৪০ মিনিট। এই স্বল্প সময়ে শিক্ষককে রিডিং পড়ানো, অর্থ বোঝানো, বোর্ডের কাজ ও মূল্যায়ন শেষ করতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত ইংরেজি শোনার সুযোগ পায় না।
আমাদের শিক্ষাক্রমের একটি বড় সমস্যা হলো ইংরেজিকে একটি ‘ভাষা’ হিসেবে না দেখা। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পুরো পাঠ্যবইটি ইংরেজিতে লেখা। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা ইংরেজি শেখাতে গিয়ে মাতৃভাষার বৈজ্ঞানিক সংমিশ্রণ (‘ট্রান্সল্যাঙ্গুয়েজিং’) করার সুযোগ পান না। আন্তর্জাতিক শিক্ষা সাময়িকীগুলোতে আলোচিত ‘ট্রান্সল্যাঙ্গুয়েজিং’ বা ‘স্কাফোল্ডিং’ ধারণার অভাব এখানে স্পষ্ট। যেখানে বলা হয়, দ্বিতীয় ভাষা শেখাতে মাতৃভাষাকে সেতু বা সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর।
"শিক্ষকদের নিজেদের ফ্লুয়েন্টলি ইংরেজি বলার অভ্যাস কম। ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা ইংরেজি শিক্ষা প্রদানের সময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল (ময়মনসিংহসহ অন্যান্য জেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫-৭০% (ইংরেজি পিছিয়ে), ৩০-৩৫% (সক্ষম শিক্ষার্থী), ২০০-২৫০ (শিক্ষার্থী/শিক্ষালয়), ৪০ মিনিট (ইংরেজি পিরিয়ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!