📌 অভাবের সংসারে থেকেও এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ফারজানা ইয়াসমিন। স্কুলের বকেয়া বেতন মেটাতে না পারায় একসময় পড়াশোনা থামানোর উপক্রম হয়েছিল তার। শিক্ষকদের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করে সে
অভাবের সংসারে থেকেও এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ফারজানা ইয়াসমিন। স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে না পারায় একপর্যায়ে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিক্ষকদের সহায়তায় মাত্র এক হাজার টাকায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফারজানা ইয়াসমিন এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন
- 📌 স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে না পারায় তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়
- 📌 শিক্ষকদের সহায়তায় মাত্র এক হাজার টাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান তিনি
- 📌 ফারজানার বাবা মো. মতিন মিয়া ঢাকায় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান
- 📌 ফারজানা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার উত্তর নাকশী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
📰 বিস্তারিত
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার উত্তর নাকশী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে পারেননি তারা। ফলে একপর্যায়ে ফারজানার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহায়তায় মাত্র এক হাজার টাকায় তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
ফারজানার বাবা মো. মতিন মিয়া ঢাকায় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। মা ফিরোজা বেগম গৃহিণী। দুই মেয়ে ফারজানা ও অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ফারহানাকে নিয়ে তাদের সংসার। নিজেদের কোনো জমিজমা না থাকায় প্রায় পাঁচ শতক বসতভিটার ওপর টিনের ঘরে তাদের বসবাস। বাবার সামান্য আয় দিয়ে কোনোরকমে চলে চার সদস্যের সংসার।
ফারজানার পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকলেও পরিবারের আর্থিক সংকট তাকে বারবার থামিয়ে দিতে চেয়েছে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি একটি সমিতির মাধ্যমে দরজির কাজ শেখেন। পরে পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতে বসে নারীদের জামাকাপড় সেলাই করে নিজের ও ছোট বোনের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। তবে সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে তার মা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ফারজানার মা ঢাকায় গিয়ে স্বামীর সঙ্গে থাকেন এবং গৃহপরিচারিকার কাজ নেন। তখন বাড়িতে দুই বোনকে একা থাকতে হতো। নিজেদের বাজার করা, রান্নাবান্না ও ঘরের কাজ শেষ করে তারা স্কুলে যেতেন।
ফারজানা বলেন, ‘অর্থের অভাবে মা-বাবার কাছে পড়াশোনার কোনো মূল্য নেই। তাঁরা মনে করেন, গার্মেন্টসে কাজ করলে সংসারে একটু ভালো থাকা যাবে। কিন্তু আমি পড়াশোনা করতে চাই।’ এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও তার আনন্দের চেয়ে দুশ্চিন্তাই বেশি। সামনে কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, পোশাক ও যাতায়াতের খরচ জোগাড় নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
‘আমি তো কোনো স্বপ্ন দেখি না। কারণ, যেকোনো সময় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাহলে শুধু শুধু স্বপ্ন দেখে লাভ কী?’ — ফারজানা ইয়াসমিন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফারজানা ইয়াসমিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫, ১ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!