📌 নওগাঁর প্রত্যন্ত গ্রামে দারিদ্র্য ও অসুস্থতার মধ্যেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন নুসরাত জাহান। তার সাফল্যে পুরো গ্রাম উল্লসিত
নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার গুড়িহারী শালবাড়ি গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত আলোর পাঠশালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেখানে গতকাল সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রধান শিক্ষকের ফোনে কল আসে নাদের আলীর। আনন্দিত হয়ে তিনি জানান, তার মেয়ে নুসরাত জাহান জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। আগেই মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে রেজাল্ট পেয়ে যায় নুসরাত। পুরো বিদ্যালয় উল্লাসে মেতে ওঠে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার গুড়িহারী শালবাড়ি গ্রামের আলোর পাঠশালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন নুসরাত জাহান
- 📌 প্রধান শিক্ষকের ফোনে কল আসে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে — নুসরাতের বাবা নাদের আলী আনন্দিতভাবে ঘোষণা দেন তার মেয়ের সাফল্যের কথা
- 📌 নুসরাতের মা সালমা বেগম গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করে সংসারের আয় বৃদ্ধি করেন
- 📌 নুসরাতের বাবা নাদের আলী মাস্টার রাজশাহী মেডিকেল কলেজে দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা করান — প্রতি মাসে সেখানে যেতে হয় তাকে
- 📌 নুসরাতের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া এবং নিজ গ্রামে একটি বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা
📰 বিস্তারিত
গুড়িহারী শালবাড়ি গ্রামটি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। যেখানে শিক্ষার আলো পুরোপুরি পৌঁছায়নি বলে জানা যায়। অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও কুসংস্কারে জর্জরিত এই সমাজে নুসরাত জাহান বেড়ে উঠেছেন। তার বাবা নাদের আলী মাস্টার একজন সহকারী শিক্ষক। দরিদ্র পরিবারের সংসার চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। তার দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে যেতে হয়। একমাত্র চাকরির আয় দিয়ে সংসার চালানো, দুই মেয়ের লেখাপড়া ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।
নুসরাতের মা সালমা বেগম গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করে কিছুটা আয় বৃদ্ধি করেন। নুসরাত নিজেও দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে লেখাপড়া চালিয়ে যান। ছোটবেলা থেকেই তিনি লেখাপড়ায় ভালো ছিলেন। প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণি পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। কখনো স্কুল কামাই না করে তিনি নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করেন। এমনকি বৃষ্টির দিনেও কাদা পানির মধ্য দিয়ে তিনি স্কুলে যেতেন। রাত জেগে পড়াশোনা করতেন আর তার মা তাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতেন।
এসএসসি পরীক্ষার পর নুসরাত প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন। যাতে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার জন্য বই কিনতে তাকে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়। স্কুল ছুটির পর অন্যান্য শিক্ষার্থীরা যখন খেলাধুলা করত, তখন নুসরাত বিশ্ব সাহিত্যের বই পড়তেন। তার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া এবং নিজ গ্রামে একটি বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।
"আমার মেয়ে নুসরাত শুধু আমাদের পরিবারের মুকুট নয়, সে পুরো গ্রামের আলোর দিশারী। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুড়িহারী শালবাড়ি, নিয়ামতপুর, নওগাঁ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুসরাত জাহান, নাদের আলী, সালমা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫, ৩৫ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!