📌 বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখতে চান না বরং শিক্ষকদের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। নতুন সিলেবাস, ডিজিটাল শিক্ষা ও শিক্ষক মর্যাদা উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা ও প্রযুক্তির সংযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সময়ে শিক্ষকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখতে চায় না বরং শিক্ষকদের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখতে চান না বরং শিক্ষকদের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
- 📌 ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন।
- 📌 দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।
- 📌 শিক্ষকতার মর্যাদা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে।
- 📌 নতুন সিলেবাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’ শেখার দিকে উৎসাহ দেওয়া হবে।
- 📌 শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাজেট আরও বাড়ানো হবে।
- 📌 শিক্ষা ব্যবস্থায় সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই প্রকাশ করা হয়েছে।
- 📌 শিক্ষা খাতকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা ও প্রযুক্তির সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে আরও আধুনিক করা জরুরি’। প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষকরা ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকতার মর্যাদা সম্পর্কে বলেন, ‘শিক্ষকতা কোনোভাবেই উপায়হীন বিকল্প বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না’। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিতে পারেন। সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে এই লক্ষ্যে। তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত’।
প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশের সময়ে শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন এবং সিলেবাস আধুনিকায়নের দাবি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই পাবেন। শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থনির্ভর না করে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
‘আনন্দময় শিক্ষা’র গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই প্রকাশ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায়ে কেউ ঝরে পড়লেও বেকার না থাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা খাতকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে’। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে এ বাজেট আরও বাড়ানো হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের মূল ভিত্তি হচ্ছে সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার। তিনি শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুযোগের পার্থক্য কমিয়ে দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
কর্মমুখী শিক্ষা প্রয়োজন হলেও কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনও শিক্ষার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মানকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করার আহ্বান জানান তিনি।
“আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর (বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!