📌 ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম পাঁচ বছর ধরে নিজের কবর তৈরি করে রেখেছেন এবং মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে আছেন। তিনি মৃত্যুর পর নিজের ও স্ত্রীর দাফন বিষয়ে সন্তানদের উপর চাপ কমাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন। স্থানীয়রা তার এই কর্মকাণ্ডকে বিস্ময়কর হিসেবে দেখছেন
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম পাঁচ বছর ধরে নিজের কবর তৈরি করে রেখেছেন এবং মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে আছেন। এই ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ তার তৈরি কবর দেখতে আসছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম পাঁচ বছর ধরে নিজের কবর তৈরি করে রেখেছেন এবং মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে আছেন।
- 📌 তিনি নিজের ও স্ত্রীর জন্য পাকা কবর তৈরি করেছেন এবং মৃত্যুর পর তাদের পাশাপাশি দাফন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
- 📌 "মৃত্যুর পর সন্তানরা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে দাফন করবে কি না এ নিয়ে আমার মনে শঙ্কা রয়েছে। তাই জীবিত থাকতেই নিজের ও স্ত্রীর কবর প্রস্তুত করে রেখেছি।"
- 📌 তিনি মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য জীবিত অবস্থায় চল্লিশা ও দোয়া মাহফিল শেষ করেছেন।
- 📌 স্থানীয়রা তার এই কর্মকাণ্ডকে জীবনের অনিবার্য পরিণতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি হিসেবে দেখছেন।
- 📌 মুফতি মাহফুজুর রহমান বলেছেন, নিজের কবর পাকা করা শরিয়তবিরোধী কাজ।
📰 বিস্তারিত
আব্দুর রহিমের তৈরি কবরটি ইট পাথরে মোড়ানো পাকা কবর। চারপাশে পরিপাটি পরিবেশ রয়েছে, পিলার, ছাদ ও ছোট ছোট মিনার সহ। প্রথম দেখায় সাধারণ স্থাপনা মনে হলেও এটি মূলত একটি কবর। প্রতিদিন তিনি নিজের কবরের যত্ন নেন এবং কোথাও ধুলা জমলে নিজ হাতে পরিষ্কার করেন।
আব্দুর রহিমের এই কর্মকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার তৈরি কবর দেখতে আসছেন। স্থানীয় রশিদ বিশ্বাস বলেছেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আব্দুর রহিম নিজের কবরের যত্ন নিয়ে আসছেন। তার এই ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ কুশাডাঙ্গা গ্রামে আসছেন।”
কুশাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহমান বলেছেন, “আমি আমার জীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের গ্রামের আব্দুর রহিম নিজের জন্য কবর খুঁড়ে রেখেছেন এবং কবরটি পাকা করে রেখেছেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। তার এই কবর দেখতে প্রায় প্রতিদিনই আব্দুর রহিমের বাড়িতে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ।”
মুফতি মাহফুজুর রহমানের মতে, কবর পাকা করা এবং কবর ঝাড়ু মোছা করা শরিয়তবিরোধী কাজ। তিনি বলেছেন, “রাসুল (সা.) বলছেন কবরের ওপর তোমরা যা কিছু করবে, কবরবাসীর জন্য তা বোঝা হয়ে যাবে। কবরস্থানের চারপাশ পাকা করা যায়, কিন্তু একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কবর পাকা করা যায় না। সুতরাং আব্দুর রহিম বেঁচে থাকাকালীন যে কাজটি করেছেন, এটি সম্পূর্ণরূপে শরিয়তবিরোধী ও হারাম কাজ।”
"মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়েও আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আমার মৃত্যুর পর যেন পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে জন্য জীবিত থাকতেই চল্লিশা ও দোয়া মাহফিল শেষ করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুশাডাঙ্গা গ্রাম, মহেশপুর উপজেলা, ঝিনাইদহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুর রহিম, মুফতি মাহফুজুর রহমান, রশিদ বিশ্বাস, আব্দুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: পাঁচ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!