📌 পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে পৌঁছাতে গড়ে এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। দারিদ্র্য ও বাল্যবিয়ের কারণে শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্যুত হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দশম শ্রেণিতে পৌঁছানোর আগেই গড়ে এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এই হার ৫০ শতাংশেরও বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলাপাড়ার ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে পৌঁছাতে গড়ে ৩৩ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে
- 📌 ২০২২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ২ হাজার ৩০৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে দশম শ্রেণিতে পৌঁছাতে পারে মাত্র ১ হাজার ৫২৫ জন
- 📌 খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ
- 📌 দারিদ্র্য ও বাল্যবিয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে বা সংসার শুরু করছে
- 📌 শিক্ষকদের প্রাইভেট কোচিংয়ের প্রতি বেশি মনোযোগ থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান কমছে
📰 বিস্তারিত
কলাপাড়ার মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দশম শ্রেণিতে পৌঁছানোর আগেই গড়ে এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এই হার ৫০ শতাংশেরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।
২০২২ সালে কলাপাড়ার ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী ছিল ২ হাজার ৩০৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ছিল ১ হাজার ১৪২ জন এবং ছাত্রী ছিল ১ হাজার ১৬৬ জন। কিন্তু এ বছর দশম শ্রেণিতে পৌঁছাতে পারে মাত্র ১ হাজার ৫২৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, ঝরে পড়েছে ৭৮৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৩৯৪ জন এবং ছাত্রী ৩৮৯ জন।
খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ছিল ২৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৭৯ জন এবং ছাত্রী ১১৯ জন। এ বছর দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৫২ জন। অর্থাৎ, ঝরে পড়েছে ১৪৬ জন শিক্ষার্থী, যার হার ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান না করে বিকাল থেকে রাত অবধি প্রাইভেট কোচিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কমছে এবং শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, যে বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি সেই বিষয় পড়ান না। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের বিষয়েই মনোযোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে।
দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের আর্থিক চাপ মেটাতে বিভিন্ন কর্মে যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, বাল্যবিয়ের কারণে অসংখ্য ছাত্রী শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। অনেক ছাত্রীই সংসার শুরু করে ফেলছে অথবা সন্তান ধারণ করছে।
"দারিদ্র্য আর বাল্যবিয়ে এখনো মাধ্যমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার প্রধান কারণ। শিক্ষকদের প্রাইভেট কোচিংয়ের প্রতি বেশি মনোযোগ থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান কমছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলাপাড়া, পটুয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, ৭৮৩ জন, ৫০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!