📌 বাবার মৃত্যুর শোক বুকে চেপে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লিজা। জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে মানসিক কষ্টের লড়াইয়ে জয়ী হন তিনি
বাবার মৃত্যুর শোক বুকে চেপে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লিজা জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে মানসিক কষ্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হন। পরীক্ষার কিছুদিন পূর্বে বাবা হারানোর অসহনীয় বেদনা সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ১৭ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী। তার এই অর্জন পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীদের মধ্যে আনন্দ ও আবেগের সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী **নির্জনা ইসলাম লিজা** এইচএসসি পরীক্ষায় **জিপিএ-৫** পেয়েছেন
- 📌 পরীক্ষার আগে বাবা **রেজাউল ইসলাম ছায়েদ** মৃত্যুবরণ করলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন লিজা, কিন্তু স্বজন ও শিক্ষকদের উৎসাহে পরীক্ষায় অংশ নেন
- 📌 লিজা বলেন, বাবার মৃত্যুর পর কোনো কিছুই ভালো লাগতো না, কিন্তু বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়েছিল
- 📌 কলেজ অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক হাজারী বলেন, বাবার মৃত্যুর শোক সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়াটি প্রশংসনীয়
- 📌 লিজা ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার তদারকিতে পড়াশুনায় মনোনিবেশ করতেন, এসএসসি-তেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
বাবার মৃত্যুর শোক বুকে চেপে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী **নির্জনা ইসলাম লিজা** জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে মানসিক কষ্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হন। পরীক্ষার কিছুদিন পূর্বে বাবা **রেজাউল ইসলাম ছায়েদ** মৃত্যুবরণ করলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন লিজা। কিন্তু স্বজন ও শিক্ষকদের উৎসাহে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন। ফলাফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগের সৃষ্টি হয়।
লিজা বলেন, ‘বাবা সব সময় চাইতেন আমার ফল ভালো হোক। পরীক্ষার আগে বাবাকে হারানো ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। বাবার মৃত্যুর পর কোনো কিছুই ভালো লাগতো না। বারবার বাবার মুখ ভেসে উঠতো। পড়ায় মন বসতো না। বাবা বেঁচে থাকলে এ ফল দেখে খুব খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই।’
লিজা মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার মা একজন গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মা-বাবা আমার পড়াশুনাসহ সব কিছুতে খেয়াল রেখেছেন। বাবার পাশাপাশি সর্বস্থায় আমার মায়ের তদারকি ছিল সবচেয়ে বেশি। কলেজের শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতা এবং নিজের ইচ্ছের কারণেই আজ ভাল ফলাফল অর্জন করেছি। আমার ইচ্ছা ডাক্তার হওয়ার। এ জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।’
কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক হাজারী বলেন, ‘নির্জনা ইসলাম লিজা শুরু থেকেই একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল, সে ভালো ফল করবে। পরীক্ষার কিছুদিন পূর্বে তার বাবা মারা যাওয়ায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমরা সবাই তাকে উৎসাহ দিয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করি। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার আগে বাবার মৃত্যুর এত বড় শোক সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে যে ফলাফল অর্জন করেছে নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তার এ সাফল্যে কলেজের সবাই খুশি। ভবিষ্যতেও সে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা করছি।’
"বাবা সব সময় চাইতেন আমার ফল ভালো হোক। বাবার মৃত্যুর পর কোনো কিছুই ভালো লাগতো না। বাবা বেঁচে থাকলে এ ফল দেখে খুব খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলা, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোগড়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নির্জনা ইসলাম লিজা, রেজাউল ইসলাম ছায়েদ, মো. আব্দুর রাজ্জাক হাজারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫.০ (এইচএসসি পরীক্ষা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!