📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সলিমুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীরা বহিরাগত এক কলেজছাত্রকে নেশাগ্রস্ত সন্দেহে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছেন। ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সলিমুল্লাহ আবাসিক হলে বহিরাগত এক কলেজছাত্রকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। শনিবার দুপুরে হলের অতিথিকক্ষে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় সোপর্দ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বহিরাগত কলেজছাত্রকে নেশাগ্রস্ত সন্দেহে মারধর ও চুল কাটা হয়েছে নবাব সলিমুল্লাহ হলের অতিথিকক্ষে
- 📌 ভুক্তভোগী মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থী, যার বাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাঠগড়া এলাকায়
- 📌 হলের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, কলেজছাত্রটি গ্যাসলাইটার চেয়ে অসংলগ্ন আচরণ করেছিলেন
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কোনো অভিযোগ নেই এবং অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সলিমুল্লাহ হলের অতিথিকক্ষে শনিবার দুপুরে বহিরাগত এক কলেজছাত্রকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কলেজছাত্রটির কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল এবং তিনি নেশাগ্রস্ত বলে মনে হয়েছিল। তাঁরা শিক্ষার্থীটিকে আটক করে হল সংসদের ভিপি ইবনে শিহাবকে খবর দেন।
ইবনে শিহাব বলেন, তিনি নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় একজন শিক্ষার্থী কলেজছাত্রটির চুল কেটে দেন। তিনি আরও জানান, কলেজছাত্রটি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওবায়দুর রহমানের (রুশাদ) কক্ষে রাত দুইটার দিকে উপস্থিত ছিলেন এবং সকালে বাড়ি ফিরছিলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে জানান, তাঁর পরিচিত ভাইয়ের মাধ্যমে ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তিনি রুশাদের কক্ষে গতকাল রাত দুইটার দিকে ছিলেন এবং সকালে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কয়েকজন তাঁকে ধরে সলিমুল্লাহ হলের অতিথিকক্ষে নিয়ে যান। তাঁরা দাবি করেন, তিনি গ্যাসলাইটার চেয়ে অসংলগ্ন আচরণ করেছেন। এরপর তাঁকে মারধর করে চুল কেটে দেওয়া হয়।
চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওবায়দুর রহমান জানান, কলেজছাত্রটি তাঁর কক্ষে রাত দুইটার দিকে এসেছিলেন এবং তিনি তাঁকে সকালে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ঘটনার পর কলেজছাত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, বহিরাগত শিক্ষার্থীকে আটক করে তাঁদের খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা শাখার সদস্য ও সহকারী প্রক্টরকে পাঠানো হয়েছিল। হলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কলেজছাত্রটি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তাঁকে নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই কোনো অভিযোগ নেই। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
"এটি একটি মূল্যবোধ ও শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে। অন্য কোথাও গিয়ে আমরা যে কেউ এমন আচরণের মুখোমুখি হতে পারি। এটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। হলের শিক্ষার্থীদের আমি ডেকে এই মূল্যবোধের সেন্টিমেন্টটি তাদের উপলব্ধি করাব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নবাব সলিমুল্লাহ আবাসিক হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইবনে শিহাব (ভিপি, নবাব সলিমুল্লাহ হল), অধ্যাপক জাকির হোসেন (প্রক্টর), ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, ওবায়দুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ঘটনার সময়কাল—রাত দুইটা থেকে সকাল পর্যন্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!