📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সাল থেকে মাসিক ৫০০ টাকার বৃত্তির হার বাড়েনি। মূল্যস্ফীতির কারণে বৃত্তি প্রতীকী হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা পেতেও দেরি করছে। বর্তমানে ৪৮তম থেকে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা বকেয়া রয়েছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৮ বছর ধরে মাসিক ৫০০ টাকার বৃত্তির টাকার হার বাড়েনি। মূল্যস্ফীতির কারণে এই বৃত্তি এখন আর অর্থনৈতিক সহায়তার পরিবর্তে প্রতীকী প্রণোদনা হিসেবে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও, বৃত্তির অর্থ পেতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৪৮তম থেকে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা বকেয়া রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সাল থেকে মাসিক ৫০০ টাকার বৃত্তির হার বাড়েনি — ৮ বছর ধরে একই পরিমাণে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে
- 📌 মূল্যস্ফীতির কারণে মাসে ৫০০ টাকার বৃত্তি শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা পেতে দীর্ঘসূত্রতা এবং জটিল আবেদন প্রক্রিয়া সমস্যা সৃষ্টি করছে
- 📌 ৪৮তম থেকে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা বকেয়া রয়েছে — কেউ কেউ স্নাতকোত্তর শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করলেও বৃত্তির টাকা পাননি
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০টি ট্রাস্টভিত্তিক বৃত্তি এবং ৩টি স্বর্ণপদক চালু রয়েছে, কিন্তু একই ফলাফলের ভিত্তিতে একাধিক বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে
📰 বিস্তারিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্ধেককে বৃত্তি দেওয়া হয়। এই বৃত্তির পরিমাণ ২০১৮ সাল থেকে মাসে ৫০০ টাকা। তবে মূল্যস্ফীতির কারণে এই পরিমাণ বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, বৃত্তি এখন প্রতীকী প্রণোদনা মাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরেই বৃত্তি চালু হয়। ১৯৮০-এর দশকে বৃত্তির পরিমাণ ছিল মাসে ৭৫ টাকা, পরে তা ১০০ ও ১২৫ টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০১৮ সালে বৃত্তির টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৫০০ টাকা করা হয়। তবে ৮ বছর ধরে এই পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বৃত্তির টাকা পেতে শিক্ষার্থীদের জটিল আবেদন প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হয়। আবেদন করতে হলে হল থেকে ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করে বিভাগে জমা দিতে হয়। বিভাগীয় সভাপতির স্বাক্ষরের পর আবার সেটি হল প্রাধ্যক্ষের কাছে জমা দিতে হয়। পরে হিসাব শাখায় পাঠানো হয় এবং ব্যাংক মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ আবেদন করতে না পারলে বৃত্তির টাকা পাওয়ার সুযোগ হারিয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের (৪৯তম ব্যাচ) থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করছেন। তবে ৪৮তম থেকে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা বকেয়া রয়েছে। জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে স্নাতকোত্তর শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছি, কিন্তু অনার্সের চতুর্থ বর্ষের বৃত্তির টাকা এখনো পাইনি। সময়মতো বৃত্তির টাকা পেলে সেটি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের সময় কাজে লাগত।’
"বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য রয়েছে। তাই বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর সরাসরি হিসাবে টাকা পাঠানো সম্ভব। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় আবেদনপ্রক্রিয়ার কারণে ভোগান্তি তৈরি হয়। কেউ নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে না পারলে তাঁর বৃত্তির টাকাও আর দেওয়া হয় না। পুরো প্রক্রিয়াটি অটোমেশনের আওতায় আনা উচিত।"
উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফ বলেন, ‘গণ্য শিক্ষাবর্ষের সব বিভাগের পরীক্ষা শেষ হলে তারপর টাকাটা একসঙ্গে সবাইকে দেওয়া হয়। এখানে কয়েকটি বিভাগ আছে, যাদের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় দেরিতে পরীক্ষা শেষ হয়। সে ক্ষেত্রে বৃত্তির টাকা পাঠাতে দেরি হয়ে থাকে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহিদ হাসান (জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী), লুৎফর রহমান আরিফ (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ বছর (বৃত্তির হার অপরিবর্তিত), ৫০০ টাকা (মাসিক বৃত্তি), ২০টি (ট্রাস্টভিত্তিক বৃত্তি), ৩টি (স্বর্ণপদক), ৪৮-৫২তম ব্যাচ (বকেয়া বৃত্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!