📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন কর্মকে (গাক) জরিমানা ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পেটব্যথা ও বিষক্রিয়া লক্ষণ দেখা দিয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে অন্তত ১১ শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন কর্মকে (গাক) ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি
- 📌 খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন কর্মকে (গাক) ১ লাখ টাকা জরিমানা ও তদন্ত কমিটি গঠন
- 📌 অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটব্যথা ও বিষক্রিয়া লক্ষণ দেখা দিয়েছে, সবাই আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীরা খাবার খাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে
- 📌 খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থীর বাবা জহুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, আগেও একই প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার সরবরাহে অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে
📰 বিস্তারিত
পুলিশ লাইনস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের ডিম ও বনরুটি দেওয়া হয়েছিল। খাবার খেয়ে একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সবারই পেটব্যথা ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ লক্ষ্য করা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার খাওয়ার পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে সবাই আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন শারমিলা খাতুন বলেন, দুপুরে তিনি প্রথমে বনরুটি খেয়েছিলেন। পরে ডিমে গন্ধ পেয়ে সাদা অংশ ফেলে দিয়ে শুধু কুসুম খেয়েছিলেন। কিছু সময় পর তার বমিভাব ও পেটব্যথা শুরু হয়। এরপর তার সঙ্গে আরও অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অন্য একজন শিক্ষার্থী মাহুমুদা আক্তার বলেন, ‘টিফিন খাওয়ার সময় ডিমের সাদা অংশে কালো কিছু দেখে সেটি ফেলে দিয়ে শুধু কুসুম খাই। অনেকে ডিম খায়নি। যারা খেয়েছে, তাদের অনেকের পেটব্যথা শুরু হয়।’
শিক্ষার্থীদের বাবা জহুরুল ইসলাম খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এর আগেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কিছুদিন খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখার পর আবার একই প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
"গঠিত তদন্ত কমিটি খাবারে কী ধরনের ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখবে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের পরিচালক সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন"
— সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হাসিবুস সাত্তার, শিক্ষার্থী শারমিলা খাতুন ও মাহুমুদা আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ শিক্ষার্থী, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল, ১ লাখ টাকা জরিমানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!