📌 ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিকড়কে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন হেরিটেজ কসপ্লের মাধ্যমে। প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে উঠে এসেছে বাংলার পোশাক, খাবার ও সাহিত্যের ঐতিহ্য
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন এক অভিনব আয়োজনের মাধ্যমে। ‘হেরিটেজ কসপ্লে’ নামের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা কেবল চরিত্র সাজেননি, বরং পরিবারের ঐতিহ্য, সাহিত্য ও আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন নিজেদের পোশাক ও উপস্থাপনার মাধ্যমে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইইউবির শিক্ষার্থীদের আয়োজনে উঠে এসেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার ও সাহিত্য
- 📌 প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন শিল্পী চন্দ্র শেখর সাহা, অধ্যাপক কাজী মাহমুদুর রহমান, সঞ্জয় চক্রবর্তী ও মাসউদ ইমরান মান্নু
- 📌 শিক্ষার্থীরা পরেছিলেন নিজেদের পরিবারের শত বছরের পুরোনো জামদানি শাড়ি ও পাঞ্জাবি
- 📌 আয়োজনে স্থান পেয়েছে বগুড়ার চিনিপাতা দই, কুমিল্লার রসমালাই, টাঙ্গাইলের বাতাসা মিঠাই ও ময়মনসিংহের মণ্ডা
- 📌 অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়েছে বাংলা সাহিত্যের চরিত্র যেমন ব্যোমকেশ বক্সী, দেবদাস ও বাকের ভাই
📰 বিস্তারিত
আইইউবির আর্ট অ্যান্ড অ্যাসথেটিক্স কোর্সের শিক্ষার্থীদের চিত্রপ্রদর্শনী উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি চন্দ্র শেখর সাহা। তিনি শিক্ষার্থীদের কাজের প্রশংসা করেন এবং ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইইউবির ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের অধ্যাপক ড়. কাজী মাহমুদুর রহমান, আর্ট অ্যান্ড অ্যাসথেটিক্স কোর্সের শিক্ষক অধ্যাপক সঞ্জয় চক্রবর্তী, ন্যাশনাল কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ কোর্সের শিক্ষক অধ্যাপক মাসউদ ইমরান মান্নু এবং দুই কোর্সের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
ড়. কাজী মাহমুদুর রহমান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে কারিকুলাম ইন্টিগ্রেশন প্রোগ্রামের ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতিকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অধ্যাপক সঞ্জয় চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে শিল্পকে অনুভব ও উপস্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যদিকে অধ্যাপক মাসউদ ইমরান মান্নু ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং পোশাক, খাবার ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ঐতিহ্য বহনের বিষয়টি তুলে ধরেন।
এই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ন্যাশনাল কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ কোর্সের শিক্ষার্থীদের হেরিটেজ কসপ্লে। এখানে কসপ্লে মানে ছিল নিজের পরিবার, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে চরিত্র ও পোশাক নির্বাচন করা। একজন শিক্ষার্থী পরেছিলেন তাঁর নানির প্রায় ৫০ বছর পুরোনো জামদানি শাড়ি। অন্যরা পরেছিলেন রাজশাহী সিল্ক, টাঙ্গাইল শাড়ি বা বাংলা সাহিত্যের পরিচিত চরিত্র যেমন ব্যোমকেশ বক্সী, দেবদাস ও বাকের ভাইয়ের সাজ।
খাবারের আয়োজনেও ছিল বৈচিত্র্য। শিক্ষার্থীরা নিয়ে আসেন নিজ জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার। ছিল বগুড়ার চিনিপাতা দই, কুমিল্লার রসমালাই ও ছানার মুড়কি, টাঙ্গাইলের বাতাসা মিঠাই এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মণ্ডা। শিক্ষার্থীদের মায়েদের হাতে তৈরি খাবারের মধ্যে ছিল দুধচিতই, নারিকেলের নাড়ু, পাটিসাপটা পিঠা ও মাংস পিঠা।
সাংস্কৃতিক পর্বেও ছিল ঐতিহ্যের ছাপ। দুই নারী শিক্ষার্থী গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। বিশেষ আয়োজন হিসেবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র একটি অংশ মঞ্চায়ন করেন কোর্সটির একদল শিক্ষার্থী। ফলে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় জীবন্ত সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায়।
"এই অভিজ্ঞতাকে অল্প কথায় প্রকাশ করা কঠিন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রত্যেকেই যেন একটি বিষয়ে বিশ্বাস করেন, ‘আমি কে, আমি কেন বাঙালি।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ঢাকাকে ঘিরে প্রচলিত হতাশার কথাও। প্রতিদিনের দুর্যোগ, উদ্বেগ ও নানা সমস্যার ভিড়ে ঢাকা যেন তার প্রাণ হারিয়ে ফেলেছে। অথচ এমন ধারণার বিপরীতে এই আয়োজন তাঁকে নতুনভাবে আশাবাদী করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চন্দ্র শেখর সাহা, ড়. কাজী মাহমুদুর রহমান, অধ্যাপক সঞ্জয় চক্রবর্তী, অধ্যাপক মাসউদ ইমরান মান্নু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!