📌 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফেসবুকে শোক প্রকাশ করায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ শিক্ষক-কর্মকর্তার অফিস কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একাধিক ব্যক্তি হুমকির শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রশাসন ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ ভাঙচুর এবং হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাগুলো ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে শোক প্রকাশ করা কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদলের নেতারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের উপ-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনার অফিস কক্ষ ভাঙচুর ও তাঁকে হেনস্তা করা হয়
- 📌 কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কর্মকর্তা টিটুল আহমেদকে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা এবং তাঁর অফিসের টেবিল ভাঙচুর করা হয়
- 📌 টিএসসিসির সহকারী রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদকে হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর টেবিল ভাঙচুর করা হয়
- 📌 হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানকে হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁদের অফিসের বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করা হয়
- 📌 অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ তৌফিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয় ও খালেদ সাইফুল্লাহসহ প্রায় ২৫ জন নেতা-কর্মী
- 📌 ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার কথা বলেছে
📰 বিস্তারিত
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের উপ-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনার অফিস কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। তাঁকে হেনস্তা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কর্মকর্তা টিটুল আহমেদকে মারধরের চেষ্টা করা হয়। টিটুল আহমেদ জানান, দুপুরের সময় তিনি অফিসে বসে ছিলেন। হঠাৎ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এসে তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘তুই মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিয়েছিস কেন? তুই আর এখন থেকে ক্যাম্পাসে আসবি না।’ এরপর তাঁর দিকে একটি প্লেট ছুড়ে মারে এবং মারতে উদ্যত হয়।
একই সময়ে টিএসসিসির সহকারী রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদকে হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর টেবিল ভাঙচুর করা হয়। হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানকেও হুমকি দেওয়া হয়। ড. মাহবুবুর রহমানের অফিস কক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। সংশ্লিষ্টদের ক্যাম্পাসে না আসার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা লুনা বলেন, ‘আমার কক্ষে এসে এ ঘটনা ঘটানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। যাওয়ার সময় তারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও মারধর করেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।’
ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন দাবি করেন, ‘১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিয়ে পোস্ট করে শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তা রুখে দিতে ছাত্রদল প্রস্তুত ছিল। যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে, আমরা সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে মিটিং করছি। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে ডেকে কথা বলেছি। তারা বিষয়টিতে ভুল স্বীকার করেছে। আমি আশা করছি, তারা ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না।’
"দুপুরের সময় আমি অফিসে বসে ছিলাম। তারা হঠাৎ এসে বলে, ‘তুই মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিয়েছিস কেন? তুই আর এখন থেকে ক্যাম্পাসে আসবি না।’ এরপর তারা আমার দিকে একটি প্লেট ছুড়ে মারে এবং মারতে উদ্যত হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইব্রাহিম হোসেন সোনা, টিটুল আহমেদ, বিপুল আহমেদ, শহিদুল ইসলাম, ড. মাহবুবুর রহমান, মাসুদ রুমি মিথুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় ২৫ জন নেতা-কর্মী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!