📌 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ করতে পারছেন না। স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি পড়াশোনা অসমাপ্ত রয়েছে। টিউশন ফি বৃদ্ধি, সেশনজট, বাংলায় পাঠদান ও অবকাঠামো সংকটের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে মোকাবেলা করছে। টিউশন ফি বৃদ্ধি, সেশনজট, বাংলায় পাঠদানের অভাব, ইন্টারনেট সমস্যা এবং অবকাঠামো সংকটের কারণে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি পড়াশোনা অসমাপ্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন সেলের কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাব এবং লোকবল সংকটের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৬–১৭ থেকে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট ৭২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও মাত্র ৩৬ জন (৫০ শতাংশ) কোর্স সম্পন্ন করেছেন
- 📌 স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া ৩১ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জন (৪৮.৩৯ শতাংশ) পড়াশোনা অসমাপ্ত রয়েছে
- 📌 ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি
- 📌 বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জন (৬০ শতাংশ) ২০১৮–২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী
- 📌 বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ: ভর্তির সময় দেওয়া সুযোগ-সুবিধার অর্ধেকও পান না, সেশনজট ও ভাষাগত সমস্যার কারণে ভিসা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ভোগান্তি
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন সেলের কর্মকর্তা শাহদৎ হোসেন বলেছেন: দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বেশি, হল ফি প্রায় ছয় গুণ, হলের মান ও আলাদা ডাইনিং ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে
- 📌 ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক ড. মোহাম্মেদ আসাদুজ্জামান বলেছেন: ফরেন সেলের স্থায়ী কার্যালয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
📰 বিস্তারিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ করতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬–১৭ থেকে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট ৭২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৩৬ জন (৫০ শতাংশ) কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন মাত্র ২০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী।
স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া ৩১ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জনের পড়াশোনা অসমাপ্ত রয়েছে, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪৮.৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে, মাস্টার্সে ভর্তি হওয়া ২৮ জনের মধ্যে পাঁচজন, পিএইচডিতে আটজনের মধ্যে চারজন এবং এমফিলে ভর্তি হওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন কোর্স সম্পন্ন করতে পারেননি।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তির সময় যেসব সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, বাস্তবে তার অর্ধেকও পান না। সেশনজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পড়াশোনা শেষ করতে না পারায় ভিসার মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অধিকাংশ ক্লাস বাংলায় হওয়ায় ভাষাগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি হলের মানসম্মত খাবার, পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং এবং সময়মতো ফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা।
গাম্বিয়া থেকে আসা ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালিমা জাল্লে বলেন, ‘আর্থিক চাপ ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচে বিদেশি শিক্ষার্থী কমছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের জন্য যথেষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ও সামাজিকভাবে মিশে যাওয়ার সুযোগও নেই। সংকট কাটাতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক বৃত্তি, আন্তঃসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং একটি কার্যকর ফরেন অ্যাফেয়ার্স সেল চালুর প্রয়োজন।’
"আর্থিক চাপ ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচে বিদেশি শিক্ষার্থী কমছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের জন্য যথেষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ও সামাজিকভাবে মিশে যাওয়ার সুযোগও নেই। সংকট কাটাতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক বৃত্তি, আন্তঃসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং একটি কার্যকর ফরেন অ্যাফেয়ার্স সেল চালুর প্রয়োজন।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন সেলের কর্মকর্তা শাহদৎ হোসেন বলেন, ‘লোকবল ও অবকাঠামোর সংকটে ফরেন সেল কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বেশি, হল ফি প্রায় ছয় গুণ। হলের মান, আলাদা ডাইনিং ও টিউটরের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের ভোগান্তি বাড়ছে। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কোনো আবেদন পড়েনি। চলতি শিক্ষাবর্ষে আর এমফিল-মাস্টার্সে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মেদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পুরোনো প্রশাসন ভবনে বড় পরিসরে ফরেন সেলের স্থায়ী কার্যালয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অগ্রগতি নিশ্চিতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডিতে ছয়জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধানে নবনির্মিত যেকোনো একটি ভবনে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি), কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালিমা জাল্লে (গাম্বিয়া), শাহদৎ হোসেন (ফরেন সেল কর্মকর্তা), ড. মোহাম্মেদ আসাদুজ্জামান (ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২ জন (মোট ভর্তি), ৩৬ জন (কোর্স সম্পন্ন), ২০ জন (বর্তমান অধ্যয়নরত), ৩১ জন (স্নাতক ভর্তি), ১৫ জন (অসমাপ্ত পড়াশোনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!