📌 বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম রোজান এইচএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান ব্যবহারিক অংশ নিতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেন। ফল প্রকাশের দিন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ কান্নায় ভেঙে পড়েন, কারণ ছেলের অসুস্থতা ও মৃত্যুতে পরিবার ডায়াবেটিসের চিকিৎসা পাননি
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম রোজান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ কান্নায় ভেঙে পড়েন, কারণ ছেলের জীববিজ্ঞান ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তার ফলাফল অসম্পূর্ণ থেকে যায়। শনিবার প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, মিনহাজুল জীববিজ্ঞান বাদে অন্যান্য বিষয়ে জিপিএ ৪.৩৩ পেয়েছিলেন। তবে জীববিজ্ঞান ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় এই বিষয়ে অকৃতকার্য দেখাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিনহাজুল ইসলাম রোজান (বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ) এইচএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান ব্যবহারিক অংশ নিতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ ও মা ফাহমিদা আক্তার জানান, ছেলের ডায়াবেটিসের কারণে পরীক্ষার চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন
- 📌 ৬ আগস্ট অসুস্থ হওয়ার পর ১৩ আগস্ট শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ-এ মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 ফলাফল প্রকাশের দিন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ কান্নায় ভেঙে পড়েন, কারণ ছেলের ফলাফল অসম্পূর্ণ থেকে যায়
- 📌 জীববিজ্ঞান বাদে জিপিএ ৪.৩৩ পেলেও, এ বিষয়ে এ প্লাস পেলে ফলাফল হতো জিপিএ ৪.৮৩
📰 বিস্তারিত
মিনহাজুল ইসলাম রোজান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেছেন। ১২ আগস্ট পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর টানা ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। ১৩ আগস্ট শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুবরণ করেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্কুলের শিক্ষকরা ফলাফলের কাগজ পাঠিয়েছেন তার কাছে। ফলাফল দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ জানান, ‘ছেলের ফলাফল বের হয়েছে। আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে ও দুটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরীক্ষা দিতে পারলে ওর ফলাফল আরও ভালো হতো।’
পরিবার জানিয়েছে, ছেলের ডায়াবেটিসের কথা জানতেন না। ৬ আগস্ট অসুস্থ হওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হলেও ডায়াবেটিসের পরীক্ষা করা হয়নি। স্যালাইন ও ঘুমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছিল। ১৩ আগস্ট রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে ৩৮ মিলিমোল/লিটারে পৌঁছায়। সেদিনই প্রথম ছেলের ডায়াবেটিসের কথা জানতে পারেন মা–বাবা।
"ছেলের ফলাফল বের হয়েছে। আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে ও দুটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরীক্ষা দিতে পারলে ওর ফলাফল আরও ভালো হতো।"
মিনহাজুল পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। অষ্টম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ক্লাস ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেছেন। অমায়িক ব্যবহারের কারণে শিক্ষকদের আস্থা ও সহপাঠীদের ভালোবাসা পেয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিনহাজুল ইসলাম রোজান, সাজ্জাদুল মিরাজ, ফাহমিদা আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ ৪.৩৩ (অসম্পূর্ণ ফলাফল), জিপিএ ৪.৮৩ (সম্পূর্ণ ফলাফল), ১২ আগস্ট (পরীক্ষা), ১০ দিন (লাইফ সাপোর্ট), ৩৮ মিলিমোল/লিটার (শর্করা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!