📌 ঝালকাঠির রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার এইচএসসি ফলাফলে পাস হার ১৯% থেকে ৬২% পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতা দেখা গেছে। বিএনপির এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল শিক্ষার মান অবনতির কারণ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শিক্ষক, গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে দায়িত্বশীলতার জন্য সতর্ক করেছেন
ঝালকাঠির রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার মান অবনতির উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে দেওয়া একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে তিনি শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ খুঁজে বের করার দাবি তুলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাস হারের বিচ্ছিন্নতা: রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার ৬টি কলেজে এইচএসসি ফলাফলে পাস হার ১৯% থেকে ৬২% পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতা দেখা গেছে।
- 📌 নিম্নতম পাস হার: আব্দুল মালেক ডিগ্রি কলেজে মাত্র ১৯% পাসের হার, যেখানে ৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
- 📌 সর্বোচ্চ পাস হার: মনস্বিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৬২.১৬% পাসের হার, যেখানে ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
- 📌 জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা: ৩টি কলেজে মোট ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যার মধ্যে মনস্বিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজে ১ জন, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সরকারি কলেজে ১ জন এবং আলহাজ লালমোন হামিদ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৩ জন।
- 📌 এমপির সতর্কবার্তা: রফিকুল ইসলাম জামাল শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, তদারকির ঘাটতি ও দায়িত্বশীলতার অভাব উল্লেখ করেছেন।
- 📌 অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব: তিনি শিক্ষক, গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবক সমাজের দায়িত্বশীলতার উপর জোর দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
কাঁঠালিয়া উপজেলার মনস্বিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা পাসের হার ৬২.১৬%। এই কলেজে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে, আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রি কলেজে ২৩১ জনের মধ্যে ১১৭ জন পাস করেছেন, পাসের হার ৫০.৬৫%। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সরকারি কলেজে ২২৪ জনের মধ্যে ১১০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, পাসের হার ৪৯%। এই কলেজেও একজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
রাজাপুর উপজেলার আলহাজ লালমোন হামিদ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ২১৬ জনের মধ্যে ১২১ জন পাস করেছেন, পাসের হার ৫৪%। এই কলেজে তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজে ২৮৯ জনের মধ্যে মাত্র ৮৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, পাসের হার ২৭%। রাজাপুর সরকারি কলেজে ১৬৪ জনের মধ্যে ৪২ জন পাস করেছেন, পাসের হার ২৫%। আব্দুল মালেক ডিগ্রি কলেজে ৯৫ জনের মধ্যে মাত্র ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা পাসের হার ১৯%।
এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল ফলাফলের এই চিত্রকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার নাজুক অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়ছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। তিনি দায়িত্বশীলতার অভাব, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং তদারকির ঘাটতি শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পিছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে শিক্ষার মানোন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শিক্ষক, গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে দায়িত্বশীলতার জন্য সতর্ক করেছেন।
এমপি জামাল মনস্বিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ফলাফল তুলনামূলক ভালো হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গভর্নিং বডি ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে ভুলত্রুটি সংশোধন করে নতুন উদ্যমে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
"শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়ছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। এ ব্যর্থতার দায় শিক্ষক, গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবক সমাজ কেউ এড়াতে পারেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝালকাঠির রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রফিকুল ইসলাম জামাল (বিএনপি এমপি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯% (নিম্নতম পাস হার), ৬২.১৬% (সর্বোচ্চ পাস হার), ৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!