📌 প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫১তম আবর্তনে শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে হাতে-কলমে উপস্থাপনের মাধ্যমে সৃজনশীলতা প্রদর্শন করে। ইউনেসকো প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করে ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন
ঢাকার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪০৬ নম্বর কোর্সের ৫১তম আবর্তনে শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে একটি অনন্য অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এই আয়োজনে ঐতিহাসিক চরিত্রে কসপ্লে, ঐতিহ্যবাহী খাবার উপস্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রদর্শন করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ সেপ্টেম্বর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪০৬ নম্বর কোর্সে ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে হাতে-কলমে উপস্থাপন করে।
- 📌 অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক চরিত্রে কসপ্লে (হাসন রাজা, মা মনসা, রানী ভবানী) এবং জেলা-বিশেষ ঐতিহ্যবাহী খাবার উপস্থাপিত হয়।
- 📌 ইউনেসকো কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুসান ভাইজ ডকুমেন্টেশন ও তথ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
- 📌 তিনজন উদ্যোক্তা (ফোয়ারা ফেরদৌস, পৃথিলা শাহনেওয়াজ, ইশরাত নশিন) নিজস্ব স্টল দিয়ে অংশ নেন।
- 📌 অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন ইউনেসকো বাংলাদেশের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভিনা মনির ও প্রথম আলোর পরামর্শক শেখ সাইফুর রহমান।
📰 বিস্তারিত
৫০তম আবর্তনের পর ধারাবাহিকভাবে ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে একটি উদ্ভাবনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা কেবল ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করেননি, বরং নিজেদের সৃজনশীলতা দিয়ে ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে জীবন্ত করে তুলেছেন। অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক চরিত্রে কসপ্লে পর্বে শিক্ষার্থীরা হাসন রাজা, মা মনসা, রানী ভবানীসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রে সজ্জিত হন। এছাড়া, শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার উপস্থাপনা করে সাংস্কৃতিক পরিচয় ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ফুটিয়ে তোলেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসউদ ইমরান ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণের পুরাতন ধারণার পরিবর্তন এবং নতুন ন্যারেটিভ নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে ইউনেসকো কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুসান ভাইজ তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেকোনো সংস্কৃতির দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক পন্থায় প্রামাণ্য দলিল তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভিনা মনির চিঠিতে এই অনুষ্ঠানের কার্যকারিতা তুলে ধরেন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। প্রথম আলোর ‘হাল ফ্যাশন’-এর পরামর্শক শেখ সাইফুর রহমান ডিজিটাল মাধ্যম ও সঠিক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে ঐতিহ্যের নানা উপাদান সবার সামনে তুলে ধরার ওপর জোর দেন।
"ডিজিটাল মাধ্যম ও সঠিক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে আমাদের শিকড়ের ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় ও প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক এবং ঐতিহ্যভিত্তিক উদ্যোক্তা ফোয়ারা ফেরদৌস, পৃথিলা শাহনেওয়াজ ও ইশরাত নশিন। তারা প্রত্যেকেই ঐতিহ্য সংরক্ষণ, চর্চা এবং এর নান্দনিক প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মালিহা নার্গিস আহমেদ ধন্যবাদ জানান। শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং দেশীয় ঐতিহ্য ও হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে নিজেদের হাত ধরে সবার মাঝে ফিরিয়ে আনতে গর্বিত মনে করছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মাসউদ ইমরান, ইউনেসকো প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, শিক্ষার্থীরা, ফোয়ারা ফেরদৌস, পৃথিলা শাহনেওয়াজ, ইশরাত নশিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১তম আবর্তন, ১৫ সেপ্টেম্বর, ৪০৬ নম্বর কোর্স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!