📌 বরগুনার আমতলীতে ব্রি-৯৮ ধানের নামে অন্য জাতের বীজ বিক্রি করে প্রতারণা করে দুই শতাধিক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ধারদেনা করে চাষাবাদ করায় তাদের আর্থিক ক্ষতি ও চাষের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে
বরগুনার আমতলী উপজেলায় ব্রি-৯৮ ধানের নামে অন্য জাতের বীজ বিক্রি করে প্রতারণা করে দুই শতাধিক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ধারদেনা করে চাষাবাদ করায় তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আউশ-আমন মৌসুমের চাষেরও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার তাদের কাছে ব্রি-৯৮ ধানের নামে অন্য জাতের বীজ বিক্রি করেছেন, যার ফলে চার মাস পেরিয়ে গেলেও ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরগুনার আমতলীতে ব্রি-৯৮ ধানের নামে অন্য জাতের বীজ বিক্রি করে দুই শতাধিক কৃষক প্রতারণার শিকার হয়েছে
- 📌 চার মাস পেরিয়ে গেলেও ব্রি-৯৮ ধানের ফলন না পাওয়ায় কৃষকদের কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
- 📌 ধারদেনা করে চাষাবাদ করায় কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং আউশ-আমন মৌসুমের চাষের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে
- 📌 বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোম্পানির মতোই বীজ বিক্রি করেছেন
- 📌 আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন
📰 বিস্তারিত
বরগুনার আমতলী উপজেলার ছারিকাটা এলাকার দুই শতাধিক কৃষক গত এপ্রিলে ব্রি-৯৮ ধানের বীজ ক্রয় করে চাষাবাদ শুরু করেছিলেন। কিন্তু বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে ক্রয় করা বীজের প্রকৃতি নিয়ে সন্দেহ জাগে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার তাদের কাছে ব্রি-৯৮ ধানের নামে অন্য জাতের বীজ বিক্রি করেছেন। এই প্রতারণায় কৃষকরা ধারদেনা করে চাষাবাদ করায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষক মো. দুলাল হাওলাদার বলেছেন, ‘আট একর জমিতে ব্রি-৯৮ ধানের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু ওই ধানে কাঙ্ক্ষিত ফলন আসেনি। এখন আমন ধান চাষ করব, সেই অবস্থাও নেই। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি, এখন আমার পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।’ অন্য কৃষক দেলোয়ার গাজী বলেছেন, ‘মোরা নিঃস্ব হয়ে গেছে। মোরা কি খামু, কইতে পারি না। মোরা ডিলার খালেক হাওলাদারের শাস্তি দাবি হরছি।’
বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আয়ান সিডের মোড়কে আমি অন্য কোনো জাতের ধান প্যাকেটজাত করিনি। কোম্পানি যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি।’ তবে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
"আমরা আউশ-আমন দুই মৌসুমে ধান চাষ করি কিন্তু এ বছর কোনো মৌসুমেই ধান হবে না।" — ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল আজিজ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আমতলী উপজেলা, বরগুনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. খালেক হাওলাদার (বীজ ডিলার), মো. দুলাল হাওলাদার, দেলোয়ার গাজী, আব্দুল আজিজ, মো. রনি আহমেদ, মো. রাসেল (কৃষি কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই শতাধিক কৃষক, ১১০ দিন (ফলন সময়), আট একর জমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!